ঘরের মাটিতে কিংবা দেশের বাইরে গেল কয়েক সিরিজ ধরে তিন ফরম্যাটেই দলগত পারফরম্যান্সে দারুণ ফর্ম প্রদর্শন করেছিল বাংলাদেশ দল। এছাড়া সব শেষ গেল মাসে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড ব্যবধানে সিরিজের এক মাত্র টেস্ট ম্যাচে জয়ের পর যেন আরো আত্মবিশ্বাসী ছিল টাইগাররা। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই যেন উড়তে থাকা বাংলাদেশকে মাটিতে নামাল ফারুকি-রশিদ-মুজিবরা। তবে এদিন স্বাগতিকদের হয়ে আশার আলো জ্বলে উঠেছিল তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে। বলতে গেলে আফগানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন তিনি একাই।
গতকাল তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আফগানিস্তান। আর শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস শুরু করেছিলেন সতর্কতায়। তবে আলগা শটে তামিমের বিদায়ের পর থেকে আফগান বোলাররা আঘাত হানতে থাকেন নিয়মিতই। এদিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন শান্ত, মুশফিক, সাকিব, মিরাজ ও দুই সিরিজ পর দলে ফেরা আফিফও। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও একের পর এক আউট হন বাজে শটে। এর মধ্যে প্রথম ইনিংসে চতুর্থ উইকেটে সাকিবের সঙ্গে তার ৩৭ রানের জুটি ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।
তবে দলীয় ব্যর্থতার দিনে আশার আলো জ্বালিয়ে যাওয়ার মিছিলের মধ্যে ঢাল হয়ে দাঁড়ান হৃদয়। কিন্তু সঙ্গী হিসেবে কোনো ব্যাটারই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি উইকেটে থিতু হয়ে থেকে। ফলে ধীরে সুস্থে তার একার পক্ষে যতটুকু সম্ভব দলীয় রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করে গেছেন তিনি। ৪০তম ওভারে ফারুকিকে মিড উইকেটে খেলে ডাবলস নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে দলের অবস্থা খারাপ দেখে ফিফটির উদযাপনও করেননি। তার ৬৭ বলে ফিফটির ইনিংসে চারের মার ছিল তিনটি। কিন্তু এরপর বেশিক্ষণ আর উইকেটে টিকে থাকতে পারেনি হৃদয়, ফিফটির পর এক বল ডট দিয়ে ফারুকির শিকার হয়ে ফেরেন সাজ ঘরে তিনি। ৬৯ বলে ৫১ রান করেন হৃদয়। আর তার ফেরার পর হাসান মাহমুদ আর মুস্তাফিজুর রহমান শেষ উইকেটে বাকি দুই ওভার খেলেন। শেষ অবদি ৪৩ ওভার ব্যাটিং করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় টাইগাররা। এর মধ্যে গোটা ইনিংসে বাংলাদেশ চার মারতে পেরেছে স্রেফ ১০টি, ছক্কা একটি তাও এসেছে ওপেনার লিটন দাসের ব্যাট থেকে। এছাড়া ১৫ ওভারের পর বাউন্ডারি হয়েছে কেবল তিনটি। ইনিংসের শেষ ১৬ ওভারে চার হয়েছে কেবল একটি।
এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের হয়ে ফজলহক ফারুকি শুরুটা একটু এলোমেলো করলেও পরে গুছিয়ে নিয়ে দারুণ বোলিং করেন। শেষ ওভারে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার ছিলেন তিনি। এছাড়া তিন স্পিনার রশিদ, মুজিব ও নবিও যথারীতি ছিলেন দুর্দান্ত।
