সরকার চাইলেই সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ‘নিখোঁজ’ সাব-রেজিস্ট্রার বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাসকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুঁজে বের করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।
তিনি বলেন, ‘বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাস প্রায় ৩ মাস নিখোঁজ। সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা চাইলেই বাদলকে একদিনের মধ্যে খুঁজে বের করতে পারে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বাদলকে খুঁজে বের করতে গাফিলতি করা হচ্ছে।’
শনিবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ‘সারাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন-অত্যাচার চলছে। আমরা প্রতিদিনই এসব নিয়ে প্রতিবাদ করি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদল বিশ্বাসকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। বাদলকে বের করতে না পারলে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হবে।’
বাদল ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলেও হিন্দু সম্প্রদায় সোচ্চার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনে জাতিসংঘে বিষয়টি নিয়ে যাব।’
তিনি হুশিয়ার দিয়ে বলেন, ‘বাদলকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দিলে বর্তমান সরকারকে সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে কিনা, তা নিয়ে আমরা ভাববো।’
বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাসকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তৎপরতায় ও সুষ্ঠু তদন্তে দ্রুত জীবিত ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রার বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাস প্রায় ৩ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার দিন থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তই করে যাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা করতে পারেনি।’
বক্তারা বলেন, ‘আমরা মনে করি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গাফিলতি করে সময় অতিবাহিত করছে। সরকারের শুধু সদিচ্ছা থাকলেই এ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক সুরাহা সম্ভব।’
সাব-রেজিস্ট্রার বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাস নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার দুই শিশু-কিশোর সন্তান ও স্ত্রী চরম শঙ্কা ও উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ‘বাদল প্রজাতন্ত্রের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। যেভাবে উনি নিখোঁজ হয়েছেন বা কেউ করেছে— তা একটি স্বাধীন দেশে কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই ঘটনাটি কে বা কারা এবং কি উদ্যেশ্যে করেছে জাতি জানতে চায়।’
প্রতিবাদ সমাবেশে নিখোঁজ সাব-রেজিস্ট্রার বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাসের পরিবার জানায়, নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের প্রত্যেক সদস্য এখন চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। স্ত্রী তার স্বামীকে দেখতে চায়, শিশু-কিশোর ছেলে দুটি তাদের প্রাণপ্রিয় বাবাকে দেখতে চায়।
গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বরিশালের উজিরপুরের গ্রামের বাড়িতে এসে নিখোঁজ হন বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাস। ২১ এপ্রিল সকালে উজিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন নিখোঁজের ছেলে অংকন বিশ্বাস।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, বাদল ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। পরিবারের স্ত্রী, দুই ছেলে ও নিজে পাশেই এক আত্মীয় বাড়ির বিয়ে অনুষ্ঠানে যান। নিখোঁজ হওয়ার আগে বাদল ছোট ছেলে অংকিত বিশ্বাসকে তার মায়ের কাছ থেকে ঘরের চাবি আনার জন্য বলে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়। বাড়ি এসে বাবাকে দেখতে না পেয়ে ছোট ছেলে অংকিত আবার মায়ের কাছে ফিরে যায় এবং বাবাকে পায়নি বলে জানায়। এরপর পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা খোঁজাখুজি শুরু করেন এবং মোবাইলফোনেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। মোবাইলে ও বিভিন্ন জায়গায় রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে সকাল থানায় মিসিং ডায়েরি করে
