পাবনায় দশ গ্রামের জন্য নেই ব্রিজ, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ১৬:১৭

পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কামারডাংগা-চরপাড়া এলাকায় ইছামতির শাখা নদী বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দশটি গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষকে। এই নদীর উপর এলাকাবাসীর পারাপারের জন্য নেই কোনো ব্রিজ। তাদের চাঁদার টাকায় নির্মিত সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইতিমধ্যেই ঘটেছে দুর্ঘটনা। দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে সেতু নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের কামার ডাংগা, ঢালি পাড়া, মোল্লা পাড়া, চরপাড়া, দাসপাড়া, বেড়পাড়া, তেলীগ্রাম, মুন্সীপাড়া, ফারাদপুর, শাঁখারী পাড়ার জনগণের গ্রাম থেকে শহরে আসতে হলে ইছামতির শাখা ছোট নদীটি পার হতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকলেও বর্ষায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শুরুতে এলাকার মানুষ পারাপারের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করলেও তা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। 

নদীতে ব্রিজ না থাকায় এসব গ্রামের মানুষকে প্রায় ১২০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, নারী, পুরুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করে গন্তব্যস্থলে যান। নদীর ওপারে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশেষ করে দুবলিয়া হাজী জসিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ, ফজিতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্টার গার্ডেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই সাঁকোর উপর দিয়ে  ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বৃদ্ধ, গর্ভবতী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ সকল জরুরী সেবা থেকেও বঞ্চিত এসব এলাকার মানুষ।

সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকার কৃষকেরা তাদের কৃষিপণ্য নিয়ে হাটে যাবার জন্য সাঁকোর একপাশে জমায়েত হয়েছেন একে একে মাথায় ধানের বস্তা তুলে সাঁকো পার হচ্ছেন। কামার ডাংগা গ্রামের ডা. আব্দুর রউফ জানান, এই সাঁকোর উপর দিয়ে একা পার হওয়া যায় না, তার উপর কৃষি ক্ষেত খামার থেকে ফসল ঘরে তুলতে ব্রিজ না থাকায় খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচলের সময় অনেক কৃষকই পড়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে গিয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন:  একমাস পার হলেও জ্ঞান ফেরেনি ভুল চিকিৎসার শিকার ছাত্রীর

চরপাড়া গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল গফুর প্রামানিক জানান স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত  এলাকার বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ ও টাকা তুলে তারা সাঁকো তৈরি করে আসছেন। প্রতি বছর নির্বাচনের সময় আসলেই বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে ব্রিজ নির্মাণের তাদের আর খোঁজ থাকে না।  

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মুন্সি বলেন, 'ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।'

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, 'স্থানীয় প্রস্তাবনা পেলে এলজিইডি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচডি