‘কত সাজানো, হাসিখুশির সংসার ছিল আমার। একটা দুর্ঘটনায় সব শেষ। আমার কলিজার দুই হাসান-হোসেন কই, তাদের ছেড়ে আমি কীভাবে থাকব। হাসপাতালে আমার জান্নাতের বাগানের টুকরা মেয়েটা আর বউটা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। কি হবে আমার। যাদের সুখের জন্য গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় কাজ করি, তারাই আজ নেই।’ এভাবেই আহাজারি করছিলেন যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ভাই হাসান ও হোসেন- এর বাবা হেলাল মুন্সী।
এদিকে, যশোরে যাত্রীবাহী বাসচাপায় নিহত সাতজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এরমধ্যে একই পরিবারের পাঁচ জন ছিলেন। একসঙ্গে এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ায় স্তব্ধ গোটা এলাকা। আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে যশোরের চার গ্রামের বাতাস। শুক্রবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকায় লেবুতলা ইউনিয়নে বাসচাপায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যাদবপুর গ্রামের হেলাল মুন্সির দুই যমজ ছেলে হাসান ও হোসাইন (২), হেলাল মুন্সির শাশুড়ি মাহিমা (৪৩), খালা শাশুড়ি রাহিমা খাতুন ও তার মেয়ে জেবা (৮), মথুরাপুর গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে ইজিবাইক চালক মুসা (২৭), সদর উপজেলা সুলতানপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন (২৬)।
যশোর সদর সেকেন্দারপুর গ্রামে প্রবাসী সাইদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সাইদুল ইসলামের বড়ভাই সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাহিমা বেগম মুক্তা ও তার মেয়ে জেবা তাহিরা স্বজনদের সঙ্গে যশোরে ক্লিনিকে যাওয়ার পথে মারা যান। তার ভাই সাইদুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। মাস দুয়েক আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। সাইদুলের তিন মেয়ের মধ্যে জেবা তাহিরা ছোট।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা এর আগে কখনো দেখিনি। একই পরিবারের ৫ জনসহ ৭ জন মারা যাওয়াতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত চালকরা আইনের ফাঁকে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। আশা করি এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, নিহতদের দাফন ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হবে। একইসঙ্গে এ তিনি ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
