পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষী

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩, ১১:২০

ঋতু পরিক্রমায় বর্ষাকাল চলছে। কিন্তু বর্ষার রূপ আকাশে ঘন কালো মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি নেই। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত খালবিলে পানি আসেনি, ভরেনি নদনদী। এরই মধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। দামও ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পশ্চিমের জেলাগুলোর পাটচাষী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্র জানায়, এবার যশোরে ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২২ হাজার ৫২০, মাগুরায় ৩৫ হাজার ৪৯৫, কুষ্টিয়ায় ৩৭ হাজার ৭৮৬, চুয়াডাঙ্গায় ১৬ হাজার ৫৭৮ হেক্টর ও মেহেরপুরে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার চাষের শুরুতে চাষিদের বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়। বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট বীজ বুনতে হয়েছে। খরার সময়ে মাঝেমধ্যে সেচ দিতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়। বর্তমানে পাট কাটা শুরু হয়েছে। খালবিলে পানি না জমায় দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।

এদিকে মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার কিছু কিছু এলাকায় নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মাগুরার শ্রীপুর উপজলার লাঙ্গলবাঁধ ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। প্রতি মণ বাছ পাট আড়াই হাজার টাকা ও ভালো পাট তিন হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফাইল ছবি

ঝিনাইদহের সোনদাহ গ্রামের চাষী উজির বিশ্বাস জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে চাষ করা পাটের ভালো ফলন হয়েছে। শনিবার শৈলকুপা হাটে প্রথম এক ভ্যান নতুন পাট নিয়ে আসেন। প্রতি মণ দুই হাজার ৮৭০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

গোবিন্দপুর গ্রামের চাষী শাহাদাত হোসেন বলেন, পাট ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না। কেটে জমিতে রেখে দিয়েছেন।

একই কথা জানান মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষী মো. জিয়াউর রহমান।

শৈলকুপার পাট ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার বলেন, শনিবার হাটে প্রায় ১০০ মণ পাট ওঠে। প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে আড়াই হাজার থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা দরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, এ অঞ্চলে এবার পাট ভালো হয়েছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, দেবীগঞ্জে এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষক এখন পাট কাটা ও পানিতে জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।

ফাইল ছবি

দেবীগঞ্জ কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার উপজেলায় তিন হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ১৮ বেল পাট।

ইত্তেফাক/আরএজে