বনগ্রামে মজুতকৃত নিম্নমানের ১০২ বস্তা সরকারি চাল আটক

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ১৯:১৩

গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মাঝে সরকারি বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে বিতরণের জন্য মজুতকৃত নিম্নমানের খাবার অনুপযোগী চাল আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে মজুতকৃত ১০২ বস্তা চাল আটক করা হয়।  

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, মঙ্গলবার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কর্মসূচির চাল বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান সাদুল্লাপুর সরকারী খাদ্য গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির ওই চাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত উত্তোলন করেননি। তার পরিবর্তে বিগত ২০১৭ সালের বস্তাবন্দী নিম্নমানের খাবার অনুপযোগী এই চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদে মজুত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন, 'ভিজিডি কর্মসূচির বরাদ্দকৃত চাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়নি। এই চালগুলো ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুর রহমান শহীদ তার উপজেলা মোড়স্থ নিজ গুদাম থেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।' তবে সেখানে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি। 

বিতরণের কথা থাকলেও কেন বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করা হলো না, এ প্রশ্নের উত্তরে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকার জানান, হঠাৎ করে এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় চাল উত্তোলন করা সম্ভব হয় নাই। এ ব্যাপারে ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুর রহমান শহীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ওই কর্মসূচির তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

আরও পড়ুন:  শুরুর সাথে মিললো না শেষ, ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ২৮৬

সাদুল্লাপুর থানার ওসি আরশেদুল হক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা খাদ্য অধিদপ্তরের স্টিকার যুক্ত। এ কারণে ধারনা করা হচ্ছে, বিগত দিনের অন্য কোন সরকারি কর্মসূচি থেকে এই চালগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যা সুযোগ বুঝে ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আর ভিজিডি কর্মসূচির বরাদ্দকৃত চালগুলো হয়তো অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হতো।'

তিনি আরও জানান, 'এছাড়া এ বিষয়ে আরও অন্য কোন পরিকল্পনা ছিল কিনা, পুলিশ সেই তথ্য অনুসন্ধানেও তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতেই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাহারিয়া খান বিপ্লব জানান, 'খাবার অনুপযোগী এই চাল বিতরণ করে বর্তমান সরকারকে সাধারণ জনগণের মাঝে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন ও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এই কাজটি করা হচ্ছিল।' 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নবীনেওয়াজ জানান, 'বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি