২০২২-২৩ অর্থবছর

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব কম আহরণ হয়েছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩, ০০:০২

বিদায়ি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত অর্থবছরে সংস্থাটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে এনবিআরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে আছে প্রায় ৪৪ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। 

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) চূড়ান্ত হিসাব এখনো আসেনি। আগামী ১৫ জুলাই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। ঐ সময় শেষে বড় অঙ্কের অর্থ জমা পড়বে। ফলে ঘাটতি কিছুটা কমবে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি খাত অর্থাত্ কাস্টমস বিভাগ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯১ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি প্রায় ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ভ্যাট খাতে সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ঘাটতি থেকে বের হতে পারেনি। ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ১৬ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। ভ্যাট খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন ১৫ জুলাই যখন চূড়ান্ত হিসাব হবে তখন হয়তো ঘাটতি অনেক কমে যাবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। পাশাপাশি ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানি খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকলেও আমদানি নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে সেভাবে বাড়েনি। আমদানি নিয়ন্ত্রণের কারণে পর্যাপ্ত এলসি খুলতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তার প্রভাব রাজস্বে পড়েছে। 

বিদায়ি অর্থবছরে আয়কর খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ঘাটতি ৯ হাজার ১৭৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আয়কর খাতে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। ঐ বছর ৩ লাখ ৮৫২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। 

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

ইত্তেফাক/ইআ