লিটনদের আজ ধবলদোলাই লজ্জা এড়ানোর মিশন!

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৩, ১৪:২৫

টেস্ট, টি-টোয়েন্টিতে যেমনই হোক, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানিয়া দল। বিশেষ করে নিজেদের ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ প্রায় অপ্রতিরোধ্য! গত ৯ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত করা বাংলাদেশের সেই সম্মান-মর্যাদায় এরই মধ্যে কুঠারাঘাত করেছে আফগানিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচেই জিতে এরই মধ্যে সিরিজ পকেটে পুড়ে ফেলেছে তারা। আজ সিরিজের তৃতীয় বা শেষ ম্যাচে আরো বড় অপমানের শঙ্কার মুখে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশের আজ হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকে বাঁচার মিশন!

প্রকৃত অর্থে হোয়াইটওয়াশ বলতে যেটা বোঝায়, নিজেদের ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে সেই লজ্জাটা সর্বশেষ পেয়েছিল ২০১৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে ধবলদোলাই হয়েছিল শ্রীলঙ্কার কাছে। ওই বছরই ভারতের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজ হেরেছিল ২-০ ব্যবধানে। যেটি প্রকৃতপক্ষে হোয়াইটওয়াশ নয়। এরপর গত ৯ বছরে নিজেদের ঘরের মাঠে ১৬টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের ১৪টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। হার মাত্র দুটি সিরিজে। সেই দুটি হারই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

অন্যদিকে ঘরের মাঠে সর্বশেষ ১৪টি সিরিজ জয়ের দুটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এই দেশটির বিপক্ষে এর আগে মাত্র দুটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজই খেলেছে বাংলাদেশ। নিজেদের ঘরের মাঠের সেই দুটি সিরিজেই বিজয়ীর হাসিটা বাংলাদেশই হেসেছে। এবার সেই সম্মান তো এর মধ্যে ধুলোয় মিশে গেছেই, ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত রেখে আজ হারলে মিলবে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ৯ বছর পর হোয়াইটওয়াশের লজ্জা!

অ্যাওয়ে মিলিয়েও গত তিন বছরে এমন লজ্জায় কখনো ডুবতে হয়নি সাকিব-মুশফিকদের। অ্যাওয়ে মিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সর্বশেষ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ২০২১ সালের মার্চে, নিউজিল্যাোন্ডর মাটিতে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ০-৩ ব্যবধানে হেরেছিল তামিম ইকবালের দল। এরপর হোম-অ্যাওয়ে মিলিয়ে মোট ১০টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের মধ্যে ৮টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। হার মাত্র দুটিতে।

এই তথ্যগুলো ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ‘বড়’ দল হয়ে উঠার স্বাক্ষ্যই দিচ্ছে। কিন্তু চলমান সিরিজে বাংলাদেশের সেই সম্মান কেড়ে নিয়েছে আফগানরা। হোয়াইটওয়াশ হলে সেটা হবে আরো বড় আঘাত। অথচ এই সিরিজের আগেও বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাসে উড়ছিল। কাকতালীয় হলো, ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে সর্বশেষ হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল যার নেতৃত্বে, এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই তামিম ইকবালই। এবারও তিনিই দলের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু ফিটনেস ইস্যুতে হঠাৎ উঠা এক ঝড়ে তিনি দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ম্যাচ হারের পর আচমকা অবসরের ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কাঁপিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন বটে, তবে এই সিরিজে খেলছেন না। তার অনুপস্থিতিতে লিটন দাসের নেতৃত্বে দ্বিতীয় ম্যাচে হার মেনে এরই মধ্যে সিরিজ খুঁইয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। মিলেছে আফগানদের বিপক্ষে প্রথম বারের মতো সিরিজ হারের লজ্জা।

আজ আরো বড় অপমানের শঙ্কা। তবে বাংলাদেশ দল হোয়াইটওয়াশের ব্যাপারে ভীত নয়। লিটন দাসের নেতৃত্ব বাংলাদেশ বরং ধবলদোলাই এড়ানোর ব্যাপারেই মানসিকভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সহকারী কোচ নিক পোথাস। আফগানিস্তানের বর্তমান স্পিন আক্রমণকে বিশ্বের সেরা আখ্যায়িত করে তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে বর্তমানে বিশ্বসেরা স্পিন-অ্যাটাক আফগানিস্তানের। আমি মনে করি, মানের দিক থেকে বর্তমান বিশ্বের সেরা স্পিনারদের তিনজনই বর্তমানে তাদের দলে। তবে আমরা এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’ লিটন দাসরা পারবেন আজ শেষ ম্যাচটি জিতে ধবলদোলাইয়ের লজ্জা এড়াতে?

 

ইত্তেফাক/ইআ