আর্জেন্টিনার জাতীয় দল সতীর্থদের প্রশ্ন, মেসির উত্তর

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ০২:২৭

প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে কত সাক্ষাতকার, কতশত বার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কত রকমের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু নিজের জাতীয় দল সতীর্থদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হওয়া, লিওনেল মেসি অতীতে এমন বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনো পড়েছেন কি না, মনে পড়ে না। গত জুনে চীন সফরে গিয়ে এমন তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতাই হয়েছে তার।

আর্জেন্টিনার টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিভি পাবলিকা’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসিকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দল তথা বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থদেরই প্রশ্নর উত্তর দিতে হয়েছে।

সাক্ষাত্কারটি চীন সফরের সময় নেওয়া হলেও ‘টিভি পাবলিকা’ কী কারণে যেন তখন তা প্রচার করেনি। অবশেষে মেসির সেই সাক্ষাত্কারটি প্রচার করা শুরু করেছে ‘টিভি পাবলিকা’। এরই মধ্যে দুই দিনে সাক্ষাত্কারের দুটি অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। গত পরশু আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির অবসরের বিষয়ে কথা বলা অংশটুকু প্রচার করা হয়। গতকাল প্রকাশ করা হয়েছে সাক্ষাত্কারের সেই বিশেষ চুম্বক অংশ, যে অংশটিতে জাতীয় দল সতীর্থদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল মেসিকে।

অবশ্য আনহেল ডি মারিয়া, পাওলো দিবালা, জুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মলিনা, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, এজেকিয়েল প্যালাসিওস, নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকো, মার্কোস অ্যাকুনারা সরাসরি মেসিকে প্রশ্ন করেননি। মেসিও সামনাসামনি বসে সতীর্থদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। ডি মারিয়া-দিবালা-আলভারেজদের প্রশ্ন আলাদাভাবে রেকর্ড করেন সাক্ষাত্কারটি নেওয়া ‘টিভি পাবলিকা’র সাংবাদিক। পরে মেসির কাছে তাদের হয়ে সেই প্রশ্নগুলো করেন তিনি। মেসি হাসিমুখেই সেসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

নাহুয়েল মলিনার প্রশ্ন ছিল, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাকে পাশটা কী দেখে দিয়েছিলেন মেসি? উত্তরে মেসি বলেছেন, ‘আমি তাকে দেখিনি, তবে তাকে দৌড়ে আসতে দেখেছিলাম।’ এজেকিয়েল প্যালাসিওসের প্রশ্নটা ছিল জাতীয় দল থেকে মেসির অবসরের ভাবনা নিয়ে। মেসির উত্তর আগের দিনের প্রকাশিত অংশেই ছাপা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু ডি মারিয়ার প্রশ্ন ছিল, তাদের জন্য মেসি আবার বাসায় বারবিকিউয়ের আয়োজন করবেন কি না। মেসির উত্তর, ‘বারবিকিউ বানানোর লোক নেই। আমি নিজের খাবার নিজে তৈরি করে খাওয়ার মানুষ না। এক থাকার সময় দুই-একবার বানিয়েছি। ওগুলো বানানোর চেয়ে ওগুলো যে বানায় তাকে সঙ্গ দিতেই বেশি ভালো লাগে।’

দিবালা, আলভারেজের প্রশ্ন ছিল প্রায় একই রকম, বিশ্বব্যাপী এত জনপ্রিয়তা, উন্মাদনা সামলানো নিয়ে এবং মেসি নিজেকে রক্তমাংসের মানুষ মনে হয় কি না। মেসি উত্তর দিয়েছেন লম্বা উত্তর। যার সারসংক্ষেপ, ‘যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থাকি, লক্ষ্য সামনে থাকে, কী অর্জন করেছি, সেসব মাথাতেই থাকে না। তবে সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

মার্কোস অ্যাকুনার প্রশ্ন ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে টাইব্রেকারে মন্তিয়েলের জয়সূচক গোলটির পর মেসির অনুভূতি কেমন ছিল। এই প্রশ্নেও লম্বার উত্তর দিয়েছেন মেসি। যার চুম্বক অংশ, ‘এসব মুহূর্ত আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

ইত্তেফাক/এসকে