‘শরতের জবা আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট’

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৩, ১৬:২২

কুসুম শিকদার। গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও পরবর্তীতে লাক্স সুন্দরীর মুকুট ও নিজের অভিনয় চর্চায় ক্যারিয়ারের নতুন টার্ন হয় তার। গৌতম ঘোষের নির্মাণে অভিনয় করে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি গানটাও ছাড়েননি। প্রকাশ পেতে যাচ্ছে তার নতুন চলচ্চিত্র। নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।

আপনার প্রযোজিত-পরিচালিত ও অভিনীত ‘শরতের জবা’ সিনেমাটি নিয়ে জানতে চাই—

‘শরতের জবা’ আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট। প্রযোজনা ভাবনার শুরু থেকেই ভালো একটি গল্প খুঁজছিলাম। সে সময় কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করি। তারা সবাই বলে, যেহেতু আমি নিজেই লেখালেখি করি সেহেতু আমার লেখা ‘অজাগতিক ছায়া’ বইয়ের ‘শরতের জবা’ গল্পটিকেই রূপায়ণ করার পরামর্শ দেন। এভাবেই গল্পটি নির্বাচন করা।

সিনেমাটি মুক্তি কবে পাচ্ছে?

এখনও মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করিনি। তবে দুই-তিন মাসের ভেতর হয়তো পর্দায় আসবে।

ছবি: ফেসবুক

দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন। এমন অবস্থায় একসঙ্গে প্রযোজনা,পরিচালনা ও অভিনয়! চ্যালেঞ্জিং ছিল না?

কতটা চাপ বা চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে কাজটি করতে গিয়ে তা বলে বোঝানো কঠিন। একে তো অনেক বছর পর অভিনয়ে ফিরে মনে হয়েছিল আমার কিছু মনে নেই বা আমি কিছু পারি না। তাছাড়া চরিত্রটি একটু জটিল হওয়ায় ভয়ও ছিল। পাশাপাশি সবকিছুর হিসেব এবং পরিচালনা! যদিও সুমন ধর এবং খায়ের খন্দকারসহ ইউনিটের সবাই সহযোগিতা করেছেন। সব মিলিয়ে সুন্দরভাবেই কাজটি শেষ হয়েছে।

কুসুম শিকদার  প্রযোজিত-পরিচালিত ও অভিনীত ‘শরতের জবা’ সিনেমার পোস্টার। ছবি: ফেসবুক

গল্পনির্ভর কাজে নির্মাতা শিল্পীরা মনোযোগী হচ্ছেন। দর্শকরাও এমন সিনেমার সঙ্গে থাকছেন। যদিও চলতি বছর ঈদের সিনেমা ছাড়া অন্যগুলো দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই জায়গা থেকে কুসুমের প্রত্যাশা কেমন থাকছে?

আমি বলবো, শরতের জবার গল্পই এখানে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। তবে বইয়ের গল্প এবং সিনেমা কিন্তু আলাদা। সেই জায়গা থেকে কতটা দর্শকপ্রিয় হবে সিনেমাটি সেটা এখনই বলা মুশকিল। তবে যেহেতু আমি এতদিন পর হলে ফিরছি সেহেতু গল্পের পাশাপাশি আমার জন্য হলেও দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে আসবেন, এই বিশ্বাস আমার রয়েছে।

সিনেমা মুক্তির আগে প্রচারণার ঘাটতি নিয়ে বরাবরই কথা হয়। অনেকেই বলেন, নির্মাতা-শিল্পীরা সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেন না। সেই জায়গায় আপনার পরিকল্পনা কেমন কী?

দেখুন, আপনার এই কথার সঙ্গে আমি একমত। সিনেমা ভালো-খারাপ বিচার করার জন্য দর্শকদের হলে আনতে হবে। সে জন্য মুক্তির আগে সিনেমাটি তাদের কাছে আমাদেরই পৌঁছে দিতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে এরইমধ্যে কাজও শুরু করেছি।

কুসুম সিকদার অভিনয়ে অনিয়মিত হওয়ার কারণ কী?

দূরে থাকার কারণ আসলে নিতান্তই ব্যক্তিগত। তাছাড়া অভিনয় ও ব্যক্তিজীবন আলাদা রাখতেই আমি পছন্দ করি। তাই বিষয়টি খোলাসা করতে চাই না।

তাহলে কী প্রযোজনা-নির্মাণ শুরুর পরই নিয়মিত দর্শকরা আপনাকে পাচ্ছে না?

এটা আসলে শরতের জবার ওপর নির্ভর করবে। দর্শকরা সিনেমাটির দেখার পর ৬০ শতাংশ মানুষও আমাকে অভিনয় বা নির্মাণে দেখতে চায় তাহলে নিশ্চয় কাজ করা হবে।

এক সময় ভালো গল্প-চরিত্র নিয়ে আপনারা অনেকেই অভিযোগ করতেন। যে কারণে দূরে সরে গেছেন অনেকে। কিন্তু ওটিটি আসায় তো কাজের ক্ষেত্র প্রচারিত হয়েছে

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে ওয়েব সিরিজ, চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই কাজের সুযোগ বেড়েছে। আমার কাছেও এরইমধ্যে চার পাঁচ সিরিজের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু এই সময়ে এসে সব ধরনের পরিবেশে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি না। সে ক্ষেত্রে শুধু গল্প-চরিত্র না, নির্মাতা এবং শুটিংয়ের পরিবেশও আমার কাছে ম্যাটার করে। তবে সব কিছু মিলে গেলে হয়তো অভিনয় করা হবে।

ছবি: ফেসবুক

অশ্লীলতা শব্দটিকে পেছনে ফেলে চলচ্চিত্র সুস্থ ধারায় ফিরেছিল। কিন্তু ঈদে সিনেমাগুলো দর্শক ফেরালেও ‘অশ্লীলতা’ শব্দটি আবার সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?

একটি সিনেমা কিন্তু সবার জন্য নয়। বিশ্বে অন্যান্য দেশে ক্যাটাগরি ভাগ করে সিনেমা নির্মাণ করা হয় এবং সেভাবেই দর্শকরা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের দেশে বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সবাই একসঙ্গে বসে একই সিনেমা দেখি। আমার মনে হয়, কে কোন সিনেমাটি দেখতে পারবে এই ক্যাটাগরি করতে পারলে এমন সমালোচনা করার সুযোগ থাকবে না।

ইত্তেফাক/আরএজে