চীনের নজর এখন কফি উৎপাদনে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ১৭:০৬

চীনের ইউনান প্রদেশের পুয়েরের সিমাও শহরের দৃষ্টিসীমায় যতদূর যায় ততদূরই সবুজ কফির বাগান। গোলমরিচ আকারের বিন থেকে তৈরি হয় কফি। কফি পরিবেশন ও পানেও রয়েছে ভিন্নতা, নতুনত্ব। তরুণ নয়, সব বয়সীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে কফি। চীনের শ্রেষ্ঠ মানের কফি এখন রপ্তানি হচ্ছে- মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপের বাজারে। চীনা কফি উৎপাদনকারীরা তাদের কফি রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে নতুন গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে।

চীন চায়ের জন্য বিখ্যাত। দেশটিতে নানা প্রকারের চা পাওয়া যায়। সারা বিশ্বেই রয়েছে চীনের চায়ের আলাদা কদর। সেই চীন এখন হাঁটছে কফি উৎপাদন ও বিশ্বব্যাপী বিপননের পথে। তাদের লক্ষ্য চায়ের মতো চীনা কফিও জগৎখ্যাত হবে।

সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশের পুয়েরের সিমাও জেলায় একদল বাংলাদেশি সাংবাদিক কফি বাগান ও উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করে। সেখানে বেইগুই কফি বাগান ও উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শনকালে কোম্পানির ব্যবস্থাপক ডেং জিয়ালু বলেন, আমরা চীনে সেরা কফি উৎপাদন করছি এবং এগুলো বাংলাদেশেও রপ্তানি করতে আগ্রহী।

বেইগুই কফি কোম্পানি চীনের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। চারশো হেক্টর জমিতে তাদের বেশ কয়েকটি কফি বাগান রয়েছে, যা সিমাও জেলার কফি উৎপাদন এলাকার ২ দশমিক ৮ শতাংশ। তারা বার্ষিক সাত হাজার দুইশো টনেরও বেশি তাজা কফি ফল উৎপাদন করে, যা কফির বার্ষিক উৎপাদনের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ডেং জানান, নেসলে ও স্টারবাকসের মতো অনেক আন্তর্জাতিক কফি ব্র্যান্ড তার কোম্পানি থেকে কফি বিন আমদানি করছে। এখন তারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন গন্তব্য খুঁজছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্তার মতে, ২০২১-২২ বছরের জুন পর্যন্ত চীন প্রায় ২ মিলিয়ন ৬০ কিলোগ্রাম ব্যাগ কফি উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরে ছিল ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন। চীনে উৎপাদিত কফির বেশিরভাগই ইউনান প্রদেশ থেকে আসে। চীনের অন্যতম নেতৃস্থানীয় কফি উৎপাদক ইউনান সিমাও বেইগুই কফি কোম্পানি লিমিটেড ১৯৮৮ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ইউনান প্রদেশের আরেকজন শীর্ষস্থানীয় কফি বিন উৎপাদনকারী পুয়ের সিটির জিয়াওওয়াজি কফি গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা লিয়াও শিউগুই বাংলাদেশে তার কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণের জন্য একই ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশ থেকে আমদানিকারক পাই, তবে আমাদের মানের সঙ্গে আপস না করে আমরা প্রতিযোগিতামূলক দামেই পণ্য রপ্তানি করব। লিয়াও জিউগুই বাগান থেকে কফি বিনের আসল স্বাদ দেওয়ার জন্য ওই অঞ্চলে তার উৎপাদন ইউনিটের পাশাপাশি একটি কফি ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, অনেক দর্শনার্থী এখানে কফির আসল স্বাদ নিতে আসেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি