বাগেরহাটে প্রকৌশলীকে মারধর, চার ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করে মামলা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ১৯:৩৭

বাগেরহাটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হানিফকে কার্যালয়ে গিয়ে মারধর ও তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ঘটনার চারদিন পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

রোববার (১৬ জুলাই) রাতে চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।

চার আসামি হলেন বাগেরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকেশ দাস, একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি মারজান হাওলাদার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পরাগ হাওলাদার ও সুজন ইসলাম।

মামলায় বলা হয়, বুধবার (১২ জুলাই) রাতে মোহাম্মদ আবু হানিফ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। রাত ৯টার দিকে চার আসামিসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন সেখানে প্রবেশ করে ঠিকাদারি কাজের বকেয়া টাকা পাওনা আছে বলে তা পরিশোধের জন্য হুমকি প্রদান করে। এ সময় তারা আবু হানিফকে বাগেরহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন বটতলায় যেতে বলে। তিনি যেতে না চাইলে তারা অফিস কক্ষে তাকে মারধর করে ও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন দায়িত্ব আনসার সদস্য ও গেট অপারেটর নাঈম বাধা দিলে তাদেরকেও মারধর করে। পরে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে শহর রক্ষা বাঁধের বট গাছের নিচে নিয়ে প্রকৌশলী আবু হানিফকে লাঞ্ছিত করা হয়।

পাউবোর বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগ নামধারীরা মোটরসাইকেলে করে কার্যালয়ে ঢুকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করে ধরে নিয়ে যান। স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে একপর্যায়ে আবু হানিফকে ছেড়ে দেন তারা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন বলেন, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কর্মকর্তা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম সেলের সমন্বয়কারী পরিদর্শক বাবুল আক্তার বলেন, চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে।

 

ইত্তেফাক/এবি