১০ জুলাই আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ১৩ জুলাই দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদশীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম শুরু করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান (অবঃ)।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা প্রশ্ন-উত্তর পর্বে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও এনআইডি প্রদান প্রশ্নে সরব ছিলেন। এনআইডি প্রসঙ্গের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা কীভাবে বাংলাদেশি হয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব অবঃ, রাষ্ট্রদূত মোহা.আবু জাফর ও কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন।
আমিরাতে দেখা যাচ্ছে অধিকহারে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গা প্রবেশ হচ্ছে এদের মধ্যে ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার অনেকে আরব আমিরাতে বসে পাসপোর্ট নবায়ন, এনআইডির আবেদনসহ অসাধুদের সহায়তায় দূতাবাস ও কনসুলেটের সেবা সাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করছে। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আহসান হাবিব খান বলেন, 'আমাদের দেশে যেমন সবখানে অসাধুরা এ-সব করে যাচ্ছে ঠিক এখানেও তাদের একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে এ বিষয়ে আরো কঠোর হতে হবে।'
মো.আবু জাফর বলেন, এখানে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী রয়েছে তারা বিভিন্ন ভাবে পাসপোর্ট এনআইডি নিতে সচেষ্ট থাকে, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় কমিউনিটির অনেক নেতা রোহিঙ্গাদের জন্য তদবির করেন, পাশাপাশি দালাল সহযোগী চক্রতো আছেই। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় অতি অল্প কিছু অসাধু অর্থ লোভী ব্যক্তি, হাতেগোনা কিছু ডকুমেন্টস ক্লিয়ারিং বা টাইপিং দোকান দ্বারাও এ কাজ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তিনি বলেন তাদের সহায়তায় সংশ্লিষ্টদের কোন ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি-না বা তথ্য যাচাই-বাছাই সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে প্রবাসীরাও জোর দাবি জানাচ্ছেন এবং তিনি-নির্বাচন কমিশন ও কনসুলেটসহ দূতাবাস সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমাদের আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে আপনারাও আমাদের অসাধুদের ধরতে সহায়তা করবেন।
কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যখন ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাই করি সেখানে গরমিল পাওয়া গেলে তা তদারকির চেষ্টা করি আবার দেখা যায় তথ্য সঠিক থাকে কিন্তু বাস্তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বলে প্রতীয়মান হয় এসব নিয়ে আমরাও কাজ করছি আপনারাও নিজেদের জন্য দেশের জন্য আমাদের সহায়তা করবেন।
প্রবাসীদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভাবনার প্রতিফলন স্বরূপ বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করে জুন মাস থেকে।
তারই ধারাবাহিকতায় ১০ জুলাই আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস পরবর্তীতে ১৩ জুলাই দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনসুলেট আনুষ্ঠানিকভাবে এনআইডি প্রদান কার্যক্রম শুরু করেন।
এনআইডির মাধ্যমে প্রবাসীরা রাস্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির পরে দুবাই ও উত্তর আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম শুরু করে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলের কনফারেন্স রুমে দশজন প্রবাসীর হাতে স্মার্ট এনআইডি তুলে দেয়ার মধ্যদিয়ে প্রবাসীদের এনআইডি কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন নির্বাচন কমিশন।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী এক বছরে অন্তত ১৫টি দেশে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
এসময় তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪০টি দেশে এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এরমধ্যে আগামী এক বছরে অন্তত ১৫টি দেশে সম্পন্ন করা হবে এ কার্যক্রম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আবেদন গ্রহণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আবুধাবি দূতাবাস ও দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রায় দুই হাজার প্রবাসী স্মার্টকার্ডের আবেদন করেছেন। এরমধ্যে প্রায় দুইশত বিতরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বিদেশে বসেই আবেদনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই প্রবাসীরা পাচ্ছেন নতুন স্মার্টকার্ড। অল্প সময়ের মধ্যে এনআইডি পাওয়ায় খুশি প্রবাসীরা।
