পিরিয়ডে প্রতি মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হতেন সেলিনা জেটলি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৩, ১৫:১৪

অনেক দিন থেকেই অভিনয় থেকে দূরে আছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। একসময় মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করলেও সেলিনার কেরিয়ার শুরু হয়েছিল কলকাতাতেই। প্রথমদিকে একটি মোবাইল কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের জব করতেন তিনি। সেই কাজের ফাঁকেই বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন।পিরিয়ডে প্রতি মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো তাকে। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কাজ করার পরও নাকি টাকা দেওয়া হয়নি সেলিনাকে। 

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিকে কাজের জন্য কোন টাকা পেতেননা সেলিনা জেটলি। তার ওপর জুটেছে অনেক সমালোচনা। ২০০১ সালে মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। 

সম্প্রতি তা নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে সেলিনা লিখেছেন, ‘এই বছর ২২ বছর পূর্ণ হলো যখন আমি সানজুয়ান, পিউর্তো রিকোয় ২০০১ সালে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় মিস ইউনিভার্স হই। মিস ওয়ার্ল্ড, মিস এশিয়া প্যাসিফিকে ভারতের দুর্দান্ত ট্রিপল জয়ের পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। লারা দত্ত, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ারা ঠিক তার আগের বছরই জয়ী হয়েছিলেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, মাত্র ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি ছিলাম, ১০৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে আমিই উচ্চতায় সবচেয়ে ছোট ছিলাম। তবুও আমি রানার্স আপ হয়েছিলাম। আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত, আমার দেশ এবং আমার পূর্বসূরির উত্তরাধিকারকে ধরে রাখা। আমি খুব অল্প বয়সে (মাত্র ১৫তে) ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখি। কলকাতায় তখন নতুন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখে সংগ্রামটা সহজ ছিল না। এছাড়াও পড়াশোনার চাপ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ তো ছিলই। সবমিলিয়ে কৈশোরেই আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। আমি তখন ব্রণ এবং খুব এন্ডোমেট্রিওসিসেও ভুগছিলাম। পিরিয়ডের সময় গুরুতর ডিসমেনোরিয়া এবং রক্তক্ষরণের কারণে প্রায় প্রতি মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। এদিকে আমার তখন জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা ছিল।

সকলে যখন সাপ্তাহিক ছুটি উপভোগ করত তখন আমি কলকাতায় শুটিং এবং র‌্যাম্প শোয়ে অংশ নিতাম। খুবই অল্প টাকার জন্য কাজ করেছি। অনেক সময় এমনও হয়েছে কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও টাকা পাইনি। তারপরেও ক্রমাগত সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়েছি। শুনতে হত আমি খুব সাদা, খুব রোগা, যথেষ্ট লম্বাও নই… ইত্যাদি। বহু বছর আমাকে এমন অবমাননাকর মুখে পড়তে হয়েছে। যা হয়তা আমাকে পরে অনন্য করে তুলেছে। কিশোরী একটি মেয়ের জন্য সেই যাত্রা সত্যিই অপ্রতিরোধ্য ছিল।'

<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fcelina.jaitly%2Fposts%2F10160030594796622&show_text=true&width=500" width="500" height="250" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>

সব শেষে সেলিনা লিখেছেন, ‘এই মুকুটগুলি... এত সব কিছুর পরেও ঝকঝকে পাথরের তৈরি নয়, এগুলি নিছক সংকল্প, শক্তি, উৎসর্গ, নিষ্ঠা, সংগ্রাম এবং অসীম সাহসের দ্বারা তৈরি। সৌন্দর্য হল একটা শক্তিশালী হাতিয়ার। আমি কৃতজ্ঞ যে একজন অভিনেতা, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ইউএন ইকুয়ালিটি চ্যাম্পিয়ন এবং একজন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি। এই সুন্দর হওয়ার অর্থ সুন্দর হয়ে জন্মানো নয়। এটি জীবনব্যাপী বেঁচে থাকা এবং একজন মানুষ হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা অর্জন করার জন্য প্রচেষ্টা।'

জানশীন, সিলসিলায়ে,নো এন্ট্রি, টম, ডিক, এন্ড হ্যারি,গোলমাল রিটার্ন সিনেমা তে সেলিনা জেটলি সবশেষ অভিনয় করেছিলেন।

ইত্তেফাক/পিএস