‘বিয়ে এড়াতে’ অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩, ০৪:০০

‘বিয়ে করতে চাপ দেওয়ায়’ অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে এক পোশাককর্মীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। গত ১৫ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জের একটি আখক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী এবং তার নবজাতক সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পোশাককর্মী মাসুদের (৩৫)  সংশ্লিষ্টতা মেলার পর সোমবার গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কাওরান বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে র‍্যাব।

বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, প্রায় এক দশক ধরে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন মাসুদ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারী কর্মী কারখানায় যোগ দিলে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠলে তারা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

আল মঈন বলেন, মেয়েটি মাসুদকে জানান, তার আগে বিয়ে হয়েছিল কিন্তু পরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে মাসুদ ও ঐ নারী একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঐ নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মাসুদকে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাসুদ রংপুরের পীরগঞ্জে তার বাড়িতে চলে গেলে তাকে খুঁজতে ঐ মেয়েও গত ১২ জুলাই সেখানে হাজির হন। সেখানে গিয়ে ঐ নারী জানতে পারেন, মাসুদ বিবাহিত ও তার একটি সন্তান রয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আল মঈন বলেন, সেখানে ঐ নারীকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান মাসুদের বর্তমান স্ত্রী। এক পর্যায়ে মাসুদ ঐ নারীকে আশ্বস্ত করেন যে তাকে তিনি বিয়ে করবেন ও একসঙ্গে তারা বসবাস করবেন। পরদিন মাসুদের খালা ঐ নারীকে ঢাকার উদ্দেশে পীরগঞ্জ থেকে বাসে তুলে দেন। মেয়েটি বাসে ওঠার পর মাসুদ তাকে ফোন করে বাস থেকে নেমে আসতে বললে মেয়েটি নেমে আসে। এরপর খালাশপীর নামের একটি জায়গায় বড় আখ খেতে ঐ মেয়েটিকে কৌশলে নিয়ে যায় মাসুদ। সেখানে মেয়েটিকে ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে। পেটে লাথি মারলে সেখানেই ঐ নারী সন্তান প্রসব করেন। সেই অবস্থায় মাসুদ তাদের ফেলে চলে আসে। এর দুদিন পর ঐ নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির লাশও মায়ের কাছে পড়ে ছিল।

ইত্তেফাক/এমএএম