হাসপাতালে রোগীর ভিড়

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩, ০২:৩০

দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনদিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাসায় থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালে নিয়মিত রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

চাঁদপুর :চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালের নিয়মিত রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার সকালে সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নুরুদ্দিন মো. জাহাঙ্গীর জানান, গত কয়েক মাসেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে জুলাই মাসে এর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পায়। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১১০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১২ জন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. আলিফ (১৫) জানান, প্রথমে আমার জ্বর হয়। আমার চোখ লাল হয়ে যায়। জ্বর না কমায় হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করাই। এরপর ডেঙ্গু ধরা পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি দেন চিকিৎসক। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন আছি। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ে। তবে এ বছর রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, ডেঙ্গু রোগী দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আলাদা করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে।

বেড়া (পাবনা) :উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলায় অন্তত ২৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ১৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে আরও অন্তত ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জন রোগীকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।  বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জান্নাত বলেন, ‘ঈদুল আজহার পর থেকে আমাদের এখানে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

 বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী নাজমুল ইসলামের স্ত্রী শাহানারা আক্তার জানান, নাজমুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ১৫ জুলাই তিনি জ্বর নিয়ে বাড়িতে আসেন। পরদিন বেড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে পরীক্ষা করার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহা. সবুর আলী বলেন, ‘মশা নিধনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আমরা চারটি ফগার মেশিন কিনেছি। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে। এছাড়া এলাকাবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার উৎসস্থল ধ্বংসের জন্য নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাউবোর সেচখাল পরিষ্কারের ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব।’

ফরিদপুর (পাবনা) :ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচ এ ডা. মনজুর রহমান জানান, ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৩৬ জনের ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষা করে পাঁচ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

শ্রীবরদী (শেরপুর) :শ্রীবরদীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্মেলন কক্ষ সোমেশ্বরীতে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকীউল বারীর সভাপতিত্বে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম