অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যৌথ আয়োজিত চলমান নারী বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন ম্যাচ। যেখানে দিনের তিন খেলার একটিতে গোলশূন্য ড্র করেছে নাইজেরিয়া ও কানাডা। দ্বিতীয়টিতে ২-০ ব্যবধানে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা ফিলিপাইনকে উড়িয়েছে ইউরোপীয়ান দেশ সুইজারল্যান্ড। এছাড়া দিনের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়ে ৩-০ গোলে কোস্টারিকাকে হারিয়েছে স্পেন।
শুক্রবার (২১ জুলাই) দিনের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় অলিম্পিক জয়ী কানাডা ও নাইজেরিয়া। এ ম্যাচে পুরোটা সময়ই আধিপত্য বজায় রেখেছিল কানাডা, তবুও এড়াতে পারেনি নাইজেরিয়ানদের রকসলিড রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক চিয়ামাকা নানাডোজিকে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয়ার্ধে পেনালটিও পেয়েছিলও অলিম্পিক জয়ীরা। সেখানেও নানাডোজি নিজের দক্ষতায় তা আটকে দেয়। এতে করে শেষ পর্যন্ত খেলা গোলশূন্যই শেষ হয়। এদিকে এ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি লাল কার্ড দেখেছে নাইজেরিয়া। কানাডিয়ান লেফটব্যাক অ্যাশলে লওরেন্সকে মারাত্মক ফাউল করে দলটির মধ্যমাঠের খেলোয়াড় ডেবোরা আবিলদুন এ কার্ড দেখেন।
দিনের অপর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ফরসিথ বার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এশিয়ান দল ফিলিপাইন ও দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে আসা সুইজারল্যান্ড। আর এ ম্যাচে প্রথম বারের মতো খেলতে আসা ফিলিপাইনকে রীতিমত নাচিয়েই ম্যাচ জিতেছে সুইসরা। খেলার প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়দের জটলায় ফাউল করে বসে ফিলিপাইন। এতে পেনাল্টি পায় সুইসরা আর সুযোগ পেয়ে দলের ফরোয়ার্ড রোমানা বল জালে জড়িয়ে নিজেদের এগিয়ে নেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের খেলার শুরুতেই আরো প্রবল বেগে ফিলিপাইনদের রক্ষণভাগে আগ্রমণ চালাতে শুরু করে ইউরোপীয়ান দলটি। খেলার ৬৪ মিনিটে সুইস লেফট উইং থেকে দারুণ ক্রসে আনা মারিয়া গোলমুখে শট নেন। গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেওয়ার পর কোম্বা শো দ্বিতীয় চেষ্টা নেন। সেটিও ঠেকিয়ে দেন ফিলিপাইন গোলরক্ষক। তবে তৃতীয় চেষ্টায় বল জালে জড়ান সেরানা পিউবেল, ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সুইসবাহিনী।
এছাড়া দিনের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন আঞ্চলিক স্টেডিয়ামে গ্রুপ সির খেলায় মুখোমুখি হয় স্পেন ও কোস্টারিকা। এ ম্যাচ বলতে গেলে স্পেনের জন্য একপেশেই হয়ে গিয়েছিল। কেননা বল দখল কিংবা আক্রমণ কোনো ক্ষেত্রেই কোস্টারিকাকে দেখা যায়নি, তারা শুধু ব্যস্ত ছিল গোল ঠেকানোতেই। এতে করে পুরো ম্যাচ জুড়ে স্পেন প্রতিপক্ষের জালে শট নিয়েছে ৪৬টি, যার মধ্যে ১২টি অনটার্গেট শট ছিল। অন্যদিকে কোস্টারিকা নিয়েছে মাত্র একটি শট, তাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এই গোটা ম্যাচে স্পেন জয়সূচক তিনটি গোল করেছে প্রথমার্ধেই, তাও ৬ মিনিটের ব্যবধানে। এর মধ্যে প্রথম গোলটি কোস্টারিকা নিজেদের জালে নিজেরাই করেছে। গোল ব্যবধান আরো হতো, কারণ, স্পেন পেনাল্টি পেয়েছিল, তবে তা কোস্টারিকান গোলরক্ষক আটকে দিয়েছে। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পেনের গোলমুখে আক্রমণ, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বসেন ভ্যালেরিয়া ডেল ক্যাম্পো। ২ মিনিট পর আবারও গোলের দেখা পায় স্পেন। মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতি করেন গোল। দ্রুত দুটি গোলের পর ২৭ মিনিটে আরো একটি গোলের দেখা পায় স্পেন, গোল করেন এস্থার গঞ্জালেস। ৩৪ মিনিটে একটি পেনালটি পায় স্পেন। সেটি ঠেকিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক জেনিফার হারমোসো। শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। যা কি না, তাদের ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সব থেকে বড় জয়।
