মশক নিয়ন্ত্রণে এবার জাবির সহায়তা নিচ্ছে ডিএনসিসি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৩, ১২:০১

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল রোববার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অফিসে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার প্রজাতি ও ঘনত্ব নির্ণয় করে কীটনাশক দেওয়া হয়। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে গিয়ে দেখেন মশা নিধন কার্যক্রমে তারা মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করতে একটি দলকে দায়িত্ব দেয়। তারা খুঁজে খুঁজে মশার প্রজননস্থল থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা ও মশার ডিম সংগ্রহ করে। পরীক্ষাগার বিশেষজ্ঞরা মশা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রজাতি নির্ধারণ করে দেন। এটি প্রথম ধাপ। পরে মশার প্রজাতি অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধনের কাজ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ফগিংকে গুরুত্ব না দিয়ে লার্ভিসাইডিংকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যেহেতু সিটি করপোরেশনের কোনো নিজস্ব ল্যাব নেই সেহেতু যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব এ নিয়ে গবেষণা করে মশার প্রজাতি নির্নয় করে মশক দমনে আরো কার্যকরী ভূমিকা নেওয়া যেতে পারে।  

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদী এ সমঝোতার আওতায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কীটনাশকের কার্যকারিতা ও মশার ঘনত্ব, মশার প্রজাতি এই ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। আর পরীক্ষার মাধ্যমেই মশা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ ও যেকোনো ডিভাইসের ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ব্যবহার করবে ডিএনসিসি। ডিএনসিসি থেকে দুজন কর্মচারী এ কাজে সহযোগীতার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ গবেষণার কাজে মূল দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার ও তার টিম। 

চুক্তির আওতায় গবেষণাগারে মাইক্রোস্কোপ ও কম্পিউটার প্রদানের মাধ্যমে এটিকে আধুনিকায়ন করতে সহায়তা করবেন তারা। এছাড়া ভবিষ্যতে ডিএনসিসির সহায়তায় জাবিতে ইনিস্টিটিউট অব ভেক্টর কন্টোল রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা যায়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শফিকুর রহমান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সফলভাবে এর কার্যকারিতা সাপেক্ষে এ সমঝোতার মেয়াদ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা না হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যেতে পারে না। ডিএনসিসিকে আমরা কারিগরি ও একাডেমিক সহায়তা দিবো। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে উৎসাহিত হবে।’

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ সমঝোতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি পাবে। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা তাদেরকে সহায়তা করতে পারবো।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. শেখ মো. মনজুরুল হক, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার, রেজিস্ট্রার আবু হাসান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান এবং ডিএনসিসি উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/কেকে