বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যেসব উদ্যোক্তা পরিচালকের মধ্যে ঋণ বিতরণ করছে, সে সব ঋণগ্রহীতা উদ্যোক্তা পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই ঐ ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে ব্যাংকের পুঞ্জীভূত মন্দমানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে ব্যাংকের মূলধন কাঠামো দুর্বল হয়ে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যাংকের মূলধন কাঠামো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, যে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ যত বেশি ঐ ব্যাংকের তত বেশি হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে গত জুন থেকেই কার্যকর করতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (ব্যাসেল-৩) ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা হারে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ আরও বেশি হারে করতে হবে। কোনো ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ১০ শতাংশ অথবা ৫০০ কোটি টাকা এ দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি তাই সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণভেদে ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ থেকে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। কোনো ঋণ মন্দ মানের খেলাপি হলে ঐ ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। প্রভিশন সংরক্ষণ ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়। আবার খেলাপি ঋণ বাড়লে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বেড়ে যায়। আগে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা মূলধন সংরক্ষণ করতে হতো। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি অনুযায়ী তা বাড়িয়ে এখন ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ আর ৪০০ কোটি টাকা এ দুয়ের মধ্যে যেটি বেশি তা সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ এবং ন্যূনতম মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এ দুয়ের মধ্যে যেটি বেশি তা সংরক্ষণ করতে হবে।
