এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে রায়হান রাফির পরিচালিত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা। ছবিটি দেশের বাজারে দারুণ ব্যবসা করছে এখনও। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায়ও ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে দর্শকদের এমন উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সিনেমাটির পাইরেসির মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলো। এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা এই জঘন্য কাজটি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নির্মাতা রায়হান রাফি।
বুধবার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাফি লেখেন, একটা ফিল্মকে পাইরেসি করা হলো পরিকল্পনা করে। শুরুতেই ছেড়ে দেয়া হলো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো। তারপর নিজেদের লোক দিয়ে ফেসবুক, ইউটিউবে সেটা ভাইরাল করে দেওয়ার চেষ্টা হলো। এরপর এখন তো পুরো সিনেমাই।
বাংলাদেশ থেকেই এই কাজটি করা হয়েছে দাবি করে রাফি লেখেন, শুরুতে ভারতীয় বিজ্ঞাপন জুড়ে দেওয়া হলো যেন মনে হয় ভারত থেকে পাইরেসি হয়েছে। কিন্তু পাইরেসি হয়েছে বাংলাদেশের ভার্সন। সিনেমার দুই দেশের ভার্সনে কী কী ফারাক, সেগুলো আর কেউ না জানলেও আমরা তো জানি। একটি সুনির্দিষ্ট চক্র সুড়ঙ্গের পেছনে লেগেছে, তাদের কারণে পাইরেসির শিকার হয়েছে সুড়ঙ্গ।
এই নির্মাতার ভাষ্য, এই পাইরেসি কারা করেছে, তা আমরা চিহ্নিত করছি। এটা বাংলাদেশ থেকেই হচ্ছে। আমাদের সাথে আইনি সংস্থাগুলোও কাজ করছে। এই ভিডিওগুলো যারা অনলাইনে ছড়িয়েছে; ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, বিভিন্ন সাইটে আপলোড করেছে কিংবা শেয়ার করেছে- তাদের সবার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। পাইরেসি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এই অপরাধের শাস্তি অপরাধীদের পেতেই হবে। আমরা সেটা নিশ্চিত করবোই।
এছাড়া ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফি আরও লেখেন, আরেকটি কথা না বললেই নয়, যেকোনো ইস্যু নিয়ে কত লেখালেখি হয়, ভিডিও কনটেন্ট হয়, প্রতিবাদ হয়। অথচ এই বিষয়ে তারা নিশ্চুপ! অনেককেই দেখছি আমাদের সিনেমা পাইরেসি হয়ে যাওয়াকে সেলিব্রেট করতে। কিন্তু তারা জানে না, যারা সত্যিকারের সিনেমাপ্রেমী, তারা পাইরেসির সিনেমা দেখছে না। তারা হলে গিয়েই দেখছে। এখনো দেশে সুড়ঙ্গ হাউজফুল, টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের সীমারেখা পেরিয়ে সুড়ঙ্গ দারুণ সাফল্য পাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। আমেরিকায় ১০৮টি হল পাচ্ছে, কলকাতায় দারুণ সাফল্য পেয়েছে, সবার মুখে মুখে সুড়ঙ্গ।
রায়হান রাফি যোগ করেন- যদিও কলকাতায় আমাদের পরীক্ষামূলক মুক্তি ছিল, যা নিয়ে আমি আমার ইন্টারভিউগুলোতে বলেছিলাম যে আমরা অনেক বেশি আশা করছি না। তবুও যতটুকু আলোচনা হয়েছে, যতটুকু ভালোবাসা পেয়েছি- এতে আমরা খুশি। কারণ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে বাংলাদেশি সিনেমার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সামনে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা দেশে মুক্তি পাচ্ছে সুড়ঙ্গ। বাংলাদেশি সিনেমার জন্য নিঃসন্দেহে এ এক দারুণ প্রাপ্তি। সুড়ঙ্গকে থামিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fraihanrafikfl%2Fposts%2F6472826269461905&show_text=true&width=500" width="500" height="291" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণত ঢাকার সিনেমা পাইরেসি হয়নি। নানা কৌশলে অবৈধ এ কাজটি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে ঢালিউড। কিন্তু সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আবার ফিরলো রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’র মাধ্যমে।
