ইছামতী, বাঙালী নদীর একটি শাখানদী। ইছামতীর তীরে গড়ে ওঠা একটি গ্রাম মহিষাবান। ঠিক নদীর তীরে কুমোর সম্প্রদায়ের বসবাস। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বগুড়ার গাবতলি উপজেলার মহিষাবান পালপাড়া তাদের ঠিকানা।
একসময় মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা থাকলেও ধাতব জিনিসপত্রের বহুল ব্যবহার ক্রমশই কুমোরদের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। শৈল্পিক চিন্তা আর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে মাটির তৈজসপত্র তৈরির পেশা থেকে তাদের বেশিরভাগই অনেক অনেক দূরে।
কুমোরদের ধুঁকতে থাকা অবস্থার পরিবর্তন এনেছে বগুড়ার দই। স্বাদে গুণে অনন্য বগুড়ার দই এখন কুমোরদের প্রধান জীবিকার উপায়। এই গ্রামের প্রতিটি উঠোনেই দেখা মেলে দইয়ের পাত্র (মাটির হাঁড়ি/ সরা) বানানোর উৎসব। ছোট, বড় সববয়সী নারী পুরুষরা নিখুঁত হাতে তৈরি করে মাটির হাঁড়ি। দই তৈরিতে ব্যবহৃত এসব হাঁড়ির প্রস্তুত প্রণালী সাধারণ হাঁড়ি থেকে আলাদা, এই আলাদা বৈশিষ্ট্য বগুড়ার দইকে করেছে অতুলনীয়।
দইয়ের হাঁড়ি তৈরিতে এগিয়ে বৃদ্ধ কুমোররা, তাদের ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রতিটি হাড়ি সমান ওজন ও পরিমাপে গড়ে ওঠে। ছবি: এইচ এম সাব্বির
