কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় নানা অভাব-অভিযোগের পাশাপাশি নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার দাবি জানান রোহিঙ্গারা। ইইউর প্রতিনিধিদল মনোযোগ সহকারে রোহিঙ্গাদের কথা শোনেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকেই ইইউ প্রতিনিধি দল উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান বেলা সোয়া ১১টায়।
প্রতিনিধি দলটি প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর ক্যাম্পে পৌছে ইউএনএইচসিআর-পরিচালিত রোহিঙ্গাদের রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে তারা ইউনিসেফ পরিচালিত রোহিঙ্গা শিশুদের লার্নিং সেন্টারে যান এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন ও তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বেলা ১২টার দিকে তিনি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পরিচালিত ই ভাউচার সেন্টার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত রোহিঙ্গাদের কালচারাল সেন্টার পরিদর্শনের পরে ইইউর প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধি নেতাসহ সাধারণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় রোহিঙ্গারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরেরকে কান্না জড়িত কন্ঠে রাবেয়া খাতুন নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন,আমরা রোহিঙ্গা জাতি, মিয়ানমার আমাদের দেশ, মিয়ানমার সেনাবাহিনী আমাদের ওপর নির্যাতন চালানোর পর পালিয়ে আমরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছি। দীর্ঘ ৬ বছর পার হলেও আমরা নিজেদের দেশে ফেরত যেতে পারিনি। ক্যাম্পের জীবন আমাদের আর ভালো লাগে না।
অন্য রোহিঙ্গারা বলেন, তবে দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে আস্তে আস্তে আমাদের খাদ্য সামগ্রী কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। আমরা প্রথমে পেতাম ১২৪০ টাকা, তা কমিয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছিল। এখন তা আরও কমিয়ে ৮৪০ টাকায় নামানো হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চলাটা কঠিন হয়ে পড়বে।
কাদের হোসাইন নামের আরেক রোহিঙ্গা বলেন, শরনার্থী জীবন আমাদের আর ভালো লাগে না। দাতা সংস্থা খাদ্য সহায়তা দিন দিন কমাচ্ছে। সমানে বাড়ছে খুন-অপহরণ গোলাগুলি। আমরা অনেক বিপদের মাঝে সময় পার করছি। তাই নিরাপদ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে আমরা নিজ দেশে ফেরত যেতে চাই।
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পর ইইউর প্রতিনিধিদলটি বিকাল ৩ টার দিকে কক্সবাজারে উদ্দেশ্য রওয়না দিয়ে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কার্যালয়ে যান। সেখানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাতে কক্সবাজারে অবস্থানরত জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে তাদের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন, ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) রাজনৈতিক উপদেষ্টা ভিক্টর ভেলেক, ঢাকাস্থ ইইউর দূত চার্লস হোয়াইটলি ও ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) সেবাস্টিয়ান রিগার-ব্রাউন, ইইউ বাংলাদেশের হেড আনা অরল্যান্ডিনি। সঙ্গে ছিলেন প্রশাসন ও শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
