রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনে ঢুকতেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন একটি বিশাল আকৃতির ঘড়ি। যেটি পুরো ভবনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। অথচ সেই ঘড়ি ছয় বছর ধরে নষ্ট থাকলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ঘড়িটি মেরামতের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির আহ্বায়ক বলছেন, তিনি এ বিষয়ে সঠিক বলতে পারছেন না। তবে বুয়েটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এটা তিনি জানেন।
জানা যায়, ১৯৫৬ সালে তত্কালীন ডিআইটি ভবনে (ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট) স্থাপন করা হয় স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন টাওয়ার ঘড়িটি। দীর্ঘ সময় ধরে মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকার মানুষও এ ঘড়িতে সময় দেখেছে। কিন্তু এটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি ঘড়ির কাঁটাও উধাও।
রাজউকের প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঘড়িটির প্রধান যন্ত্র সময়ের কাঁটা ঘোরানোর হুইলের কিছু দাঁত ক্ষয়ে গেছে। আর বিভিন্ন হুইলের চেইন ও পারদ, সুইচসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। ঘড়িটি কি মেরামত করা হবে নাকি নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রাজউক বোর্ড সভায় ২০১৮ সালে প্রধান প্রকৌশলীকে (প্রজেক্ট ও ডিজাইন) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—পরিচালক (প্রশাসন), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-১) এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক)। এই কমিটিকে টাওয়ার ঘড়ির ডায়ালসহ বাইরের অবয়ব ঠিক রেখে যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের করে ঘড়িটি চালু অথবা নতুন ডিজিটাল টাওয়ার ঘড়ি লাগানোর বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়েছে। কমিটির মতামত পাওয়ার পর ঘড়ির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
রাজউক ভবনের পাশেই প্রেসিডেন্টের বাসভবন বঙ্গভবন অবস্থিত। বঙ্গভবনে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে আসা দেশি-বিদেশি অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত ঘড়িটি। অন্যদিকে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও পাশের বিভিন্ন মার্কেটে আসা মানুষের দৃষ্টি কাড়ত এই ঘড়ি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি নষ্ট থাকায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বায়তুল মোকাররম মসজিদে আসা এক মুসল্লি বলেন, একসময় সবার হাতে ঘড়ি ছিল না, এখন ঘড়ি হয়েছে, কিন্তু এই ঘড়ির একটি ঐতিহ্য আছে, এটি সবসময় দেখলে অন্য রকম একটি ভালো লাগা কাজ করত। কিন্তু নষ্ট ঘড়ির দিকে তো কেউ আর তাকাবে না—এটাই স্বাভাবিক। কেন যে এটি ঠিক করা হচ্ছে না, কে জানে। রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি বহুদিন ধরেই নষ্ট। একটা সময় ঢুকতেই চোখে পড়ত ঘড়িটি, যখন এটি সচল ছিল দেখলেই ভালো লাগত। কিন্তু সেটি তো হচ্ছে না।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ও রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রজেক্ট ও ডিজাইন) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, এটি মেরামত করার জন্য বুয়েটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ কী অবস্থা তিনি জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে জানার জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
