ব্রিকস সম্প্রসারণে চীনা পরিকল্পনার বিরোধী ভারত ও ব্রাজিল

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৭:০০

ব্রিকস জোট সম্প্রসারণ করতে চাইছে চীন। এজন্য নিজেদের পছন্দমতো সদস্য বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে দেশটি। বেইজিং ব্রিকসকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পালটা হিসেবে ব্রিকস সংগঠনকে তুলে ধরতে চাইছে। তবে সেখানে বাদ সেধেছে ভারত এবং ব্রাজিল।

আগামী মাসেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈঠকে বসবেন পাঁচ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানেই নতুন দেশকে সদস্যপদ দেওয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ব্রিকসের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি ভালো চোখে দেখছে না পশ্চিমা বিশ্ব। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে চাইছে এই জোট। যেহেতু চীন ও রাশিয়া দুই দেশই ব্রিকসের সদস্য, তাই নিজেদের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোকেই সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী দুই দেশ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনকারী দেশগুলোকে দ্রুত সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী চীনই। একাধিক বৈঠকে এই বিষয়ে দেশটি কথা বলেছে। আরো ডজনখানেক দেশ ব্রিকসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আগ্রহী বলেই জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এখন সৌদি আরব এবং ইন্দোনেশিয়াকে সদস্যপদ দেওয়ার চিন্ত করছে চীন। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির এই কাজেই তীব্র বিরোধিতা করবে ভারত ও ব্রাজিল। যদিও দুই দেশের বিরোধিতার কারণ অনেকটাই আলাদা। 

ব্রাজিলের দাবি, পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার জন্য ব্রিকসে অন্য দেশকে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। তবে ভারত সেই পথে হাঁটবে না। ভারতের দাবি, এই গোষ্ঠীতে অন্য দেশ আদৌ যোগ দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে কঠোর নিয়মকানুন তৈরি করা দরকার। সদস্যপদ না দিয়েও পরিস্থিতি বিচার করে এই গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কিছু দেশকে, এমনটাই মত ভারতের। পর্যবেক্ষক হিসেবেও বেশকিছু রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে নয়াদিল্লি।

ভারতের মতে, আর্থিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকেই ব্রিকসের সদস্যপদ দেওয়া উচিত। সৌদি আরবের মতো একনায়কতান্ত্রিক দেশকে ব্রিকসে স্বাগত জানাতে একেবারেই রাজি নয় ভারত। তবে বন্ধুরাষ্ট্র চীনের মতো ব্রিকসের সদস্যপদ বাড়াতে সে রকম আগ্রহী নয় রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  যদি অন্য সদস্যরা একমত হয় তাহলে নতুন রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাতে তাদের আপত্তি নেই। —এনডিটিভি ও সংবাদ প্রতিদিন

ইত্তেফাক/এএইচপি