গাজীপুরে তাহমিনা হত্যা

‘আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল’, ঘাতক গ্রেফতার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০২:২৮

২০২১ সালে ১৭ জুলাই গাজীপুর মহানগরীর ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় গৃহকর্মী আছমা আক্তার ওরফে তাহমিনা (২০) ঝুলন্ত লাশ। এ ঘটনায় নগরীর বাসন থানায় অপমৃত্যু মামলাও হয়। তবে ময়নাতদন্তে বেরিয়ে আসে আত্মহত্যা নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল তাহমিনাকে। এরপর অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। 

গত বছরের ২৬ মে বাসন থানার পুলিশ হত্যার অভিযোগ সত্য নয় মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। আদালত ঐ প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর বৃহস্পতিবার এক আসামিকে গ্রেফতার করে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই।  গ্রেফতার হওয়া খোকন (৪৫) নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার নোয়াপাড়া গ্রামের আলতু মিয়ার ছেলে এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার তাহমিনার স্বামী নবী হোসেনের ভগ্নীপতি।

পিবিআইয়ের গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, নবী হোসেনের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার কুষ্ঠিবাড়ি গ্রামে। নবী হোসেন (৩০) প্রথমে তাহমিনার বড় বোন একই উপজেলার খালপাড় গ্রামের রজব আলী মেয়ে শরিফা আক্তারকে (২৭) বিয়ে করে ঘরজামাই থাকতে থাকেন। 

পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শ্যালিকা তাহমিনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে গাজীপুর মহানগরীর মোগরখাল এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। জানতে পেরে শরিফাও গাজীপুর আসেন। তাকেও আলাদা বাসা ভাড়া করে রাখেন নবী। জানতে পেরে তাহমিনা যে কোনো একজনের সঙ্গে সংসার করার জন্য নবীকে চাপ দেয়। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে ঝগড়া বাধলে নবী ও সেখানে উপস্থিত থাকা খোকন ভাড়া বাসায় তাহমিনাকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজায়।

ইত্তেফাক/এএইচপি