কলকাতার ফুটবলপাড়া মহাব্যস্ত। রোববার সন্ধ্যায় মোহন বাগান দিবস গেল। আর আজ মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই দিনটা ইস্ট বেঙ্গলের জন্য অন্য রকম একটা দিন। ইস্ট বেঙ্গলের নিজ ঘরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বাংলাদেশের ফুটবলার, তাদের পরিবার, সংগঠককে ক্লাবের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হলো। ক্লাবে সমর্থকেরা ভিড় করেছে। আজ তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সেই অনুষ্ঠানের আগেই গতকাল সোমবার (৩১ জুলাই) ক্লাব ডেরায় সমর্থকেরা জমে গেল। বৃষ্টি পড়ছিল, সবার মুখে আনন্দের শেষ নেই। বলছিল এটা আনন্দের বৃষ্টি। সবাই ভিজলে এই আনন্দ নাকি আজীবন মনে থাকবে।
১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবার মূল আকর্ষণ বাংলাদেশের ফুটবল। শেখ মো. আসলাম, গাউস, মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেম, আবাহনীর হারুনুর রশিদসহ বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী মেহেরিন ছিলেন। তাদের সঙ্গে আসলামের স্ত্রী মোনা মারজান, বড় মেয়ে মানি মারজান নোলক, ছোট মেয়ে মাহী মারজান, মুন্নার ছেলে আজমান সালিদ ছিলেন অনুষ্ঠানে।
ইস্ট বেঙ্গলের লাল-হলুদ ডেরায় আসলাম-গাউসদের আগমনী বার্তায় ছুটে এসেছিলেন ৯১ লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক বিকাশ পাজি, এই দলের গোলকিপার ভাস্কর গাঙ্গুলি, মাঝমাঠের প্রশান্ত ব্যানার্জি, তরুণ দে, রক্ষণের প্রহরী মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রমুখ ফুটবলার। তাদের মুখে বাংলাদেশের ফুটবলের জয়গান শুনলেন সবাই।
সেখানে মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের ফুটবল। দুই দেশের ফুটবলের কথা বলতে গিয়ে স্বর্ণালি যুগের কথা উঠে এলো। উঠে এলো কীভাবে দুই বাংলার ফুটবল এক হয়েছিল। এত দিন পর জানা গেল আরো একটি নতুন কথা। সাবেক তারকা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম বলছিলেন, আবাহনী একটা ফাইনালে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবকে হারিয়েছিল তারই একমাত্র গোলে। সেই হারের কারণে ইস্ট বেঙ্গলের পল্টু দার স্ত্রী কান্না করেছিলেন। আবাহনীর হারুন ভাই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার স্ত্রীর কাছে। আমরা বলেছিলাম, আপনার কথায় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবে আমরা খেলে দিয়ে আসব। মুন্না, রুমিকেও নিতে হবে। তখন হারুন ভাই উদ্যোগ নেন।’
আসলাম বললেন, ‘এই ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের মাঠে জর্জ টেলিগ্রাফের বিপক্ষে ম্যাচ। আমি গোল করলাম। টেলিগ্রাফের গোলরক্ষকের আঘাতে আমি মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলাম।’ দর্শক সারিতে বসা আসলামের স্ত্রী মোনা মারজান বলে উঠলেন, ইস্ট বেঙ্গলে খেলতে গিয়ে আসলাম তার প্রথম সন্তানের মুখ দেখতে পারেননি ২১ দিন। আমি কখনো ভুলব না। সবাই তাকে ১০০ মার্ক দিলেও আমি দেব ৯৫ মার্ক। সেই ৫ মার্ক কোনো দিনও দেব না। একজন নতুন মা কোনোভাবেই মেনে নেবে না নবজাতক সন্তানের পিতা ২১ দিনেও বাচ্চার মুখ দেখতে পারবে না।’
মোনেম মুন্নার স্ত্রী সুরভী মোনেমকে কথা বলতে দেওয়া হলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বলছিলেন, মুন্না যখন ইস্টবেঙ্গলে খেলতে আসে, তখন আমার সঙ্গে বিয়ে হয়নি। আমি মুন্নার ফুটবলজীবনের জনপ্রিয়তা দেখিনি। কারণ মুন্না ফুটবল নিয়ে সংসারে কোনো গল্প করতেন না। মুন্নার সঙ্গে আমার সংসারজীবন ১২ বছরের। মুন্না মারা যাওয়ার পর তার জনপ্রিয়তার কথা শুনালাম, দেখলাম। আমি জানতাম না মুন্না এত জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন।
ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পেছনে গোলাম গাউসের অবদান ছিল। গাউসকে কিছু বলতে বলা হলে তিনি এড়িয়ে যান। কথা বললেন না বলেই জানান।
