নাশকতার গল্প হাস্যকর ও বানোয়াট, গ্রেপ্তার বুয়েট শিক্ষার্থীদের স্বজনদের দাবি

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩, ১৭:৪৯

টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা করবে পুলিশের এমন অভিযোগকে হাস্যকর ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন গ্রেপ্তার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে আলি আহসান জুনায়েদ নামের এক অভিভাবক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঘুরতে যাওয়া আমাদের সন্তান, আপনজন বুয়েটের ২৪ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের সন্তানদের অন্যায়ভাবে আটক করা, সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করে আমাদের সন্তানদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ফলে নিরুপায় হয়ে আজ আপনাদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঘটিয়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, জানমালের প্রতি ক্ষতিসাধন, রাষ্ট্রদ্রোহ কর্মকাণ্ডসহ ধর্মীয় জিহাদ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরো বিষয়টি আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এমন বাস্তবতায় সোমবার সন্ধ্যায় আমরা কয়েকজন অভিভাবক বুয়েট ক্যাম্পাসে আসি ভিসি স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তাকে পুরো বিষয়টি অবহিত করি। 

একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, তাদের কাছ থেকে জব্দকৃত মালামাল হিসেবে যেগুলো দেখানো হয়েছে, এটি অত্যন্ত হাস্যকর এবং পরিষ্কারভাবে বানোয়াট একটি বিষয়। তারা টার্ম-ব্রেকের ছুটিতে সদ্য এসএসসি পাশ করা আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সেখানে ঘুরতে গেছে। এভাবে করে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা করবে এমন অভিযোগ হাস্যকর। 

আইনজীবীদের গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, মামলা সাজাতে পুলিশ তাদের কাছে কিছুই না পেয়ে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট করে জব্দ দেখিয়েছে।

স্বজনরা আরও বলেন, কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে আমাদের সন্তানরা জড়িত নয়। ছোটবেলা থেকেই তাদের পড়ালেখার প্রতি ঝোঁক ছিল। রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কোনো কাজের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল না কখনো। এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এমন মামলা সাজানো হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়।

এমন পরিস্থিতিতে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার হিসেবে আমরা মানসিকভাবে বেদনাদায়ক সময় পার করছি ও তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। দ্রুত তাদের জামিন প্রদান ও মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বিচারবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানাচ্ছি। 

এ ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসন, বুয়েটের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমরা দেশবাসীর কাছে আমাদের নিরপরাধ সন্তানদের পাশে থাকার জন্য সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

ইত্তেফাক/এন/এবি