কারিগরি ত্রুটির কারণে বাংলাদেশ রিয়েলটাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেমস (আরটিজিএস) সার্ভার এক দিন বন্ধ থাকার পর আন্তঃব্যাংক লেনদেন ফের স্বাভাবিক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক সারোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে ব্যাংক খোলার সময় থেকেই স্বাভাবিক লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আরটিজিএস সার্ভারে যে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সোমবার রাতেই তার সমাধান করতে পেরেছেন তাদের প্রযুক্তিবিদেরা।
কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকেই আরটিজিএসের মাধ্যমে ভিন্ন ব্যাংকের চেক নগদায়নসহ অন্যান্য লেনদেন করতে পারছেন তারা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিস শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, সকাল থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে আন্তঃব্যাংক লেনদেন করতে পেরেছেন।
সার্ভারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সোমবার আরটিজিএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না ব্যাংকাররা। ফলে কোনো আন্তঃব্যাংক লেনদেনের নিষ্পত্তি করা যাচ্ছিল না। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না গেলে তারা যেন মঙ্গলবার ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে’ আন্তঃব্যাংকে লেনদেন নিষ্পত্তির প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। তবে ত্রুটি সারানো সম্ভব হওয়ায় তার আর প্রয়োজন হয়নি। এর আগে গত এপ্রিলে কারিগরি ত্রুটির কারণে ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ অব বাংলাদেশের (এনপিএসবি) সার্ভার।
আরটিজিএস মাধ্যমে এক ব্যাংকের গ্রাহক আরেক ব্যাংকে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে লেনদেন করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমদানি পণ্যের শুল্ক পরিশোধও করা যায়। কোনো ঊর্ধ্বসীমা না থাকলেও সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা লেনদেন করা যায় আরটিজিএস ব্যবহার করে। প্রতিটি লেনদেনে ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা সেবা ফি কেটে নেয় এর বিপরীতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৮ হাজার শাখা আরটিজিএসে সংযুক্ত রয়েছে। গত জুন মাসে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৮২৫টি লেনদেনে ৫৪ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা হাতবদল হয়। ঐ মাসে ৫৭ হাজার ৩৯৯টি আদেশে লেনদেন হয় ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
