আসলাম-মুন্না-গাউসের মঞ্চে আবেগে ভাসলো কলকাতার দর্শক

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩, ১২:৫০

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কিংবা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম-সংলগ্ন উডেন ফ্লোরে যেমন নানা ধরনের খেলার অনুশীলন হয়, টুর্নামেন্ট হয়, তেমনি কলকাতায় গড়ের মাঠেও রয়েছে এমন একটি জিমনেশিয়াম। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। এই হলের ভেতরে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সমর্থকদের ভিড়। আসছিলেন নানা শ্রেণির মানুষ। এখানেই ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব তার ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মহাধুমধামে উদ্যাপন করল। ভারত গৌরব দেওয়া হয় রতন টাটাকে। সব মিলিয়ে অবদানের জন্য সব মিলিয়ে ১৬ জনকে পুরস্কৃত করে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব। ইলিশ মাছ তুলে দিয়ে, উত্তরীয় পরিয়ে, আবেগঘন এক মুহূর্ত দেখল পশ্চিম বাংলার ফুটবল সমর্থক।

ডেকে নেওয়া হলো বাংলার 'কিংব্যাক' মোনেম মুন্নার পরিবারকে। স্ত্রী সুরভী মোনেম, মুন্নার ছেলে আজমান সালিদ উঠলেন মঞ্চে। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস অভিনন্দন জানালেন। মুন্নার খেলার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। পেছন থেকে মুন্না সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়। দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান মুন্নাকে। ডেকে নেওয়া হয় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করার আরেক কারিগর উপমহাদেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম ও উইঙ্গার গোলাম গাউসকে। তাদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। করতালিতে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠান। সম্মানিত করা হয় কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা রঞ্জন সেনকে। অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী মেহেরিনকে ইলিশ মাছের সঙ্গে শাড়ি উপহার দেওয়া হয়। আবাহনীর পক্ষ থেকে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবকে সৌজন্য শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন আত্মজন প্রীতি সম্মান পাওয়া সংগঠক হারুনুর রশিদ।

ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বক্তব্য দিলেন, ‘যত দিন বাংলার ফুটবল মাথা উঁচু করে না দাঁড়াবে, তত দিন ভারতের ফুটবল উঠবে না। এই মা-মাটির ভারতের ফুটবলে উন্নতি করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ একাধিক মন্ত্রী ছাড়াও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে, সিবিএর সভাপতি স্নেহাশিষ গাঙ্গুলি এসেছিলেন লাল-হলুদের মঞ্চে।   

এত আয়োজনের মঞ্চে আনা হয়েছে ইস্ট বেঙ্গলের স্প্যানিশ কোচ কার্লোসকে। দলের ফুটবলারদের সঙ্গে নিয়ে এই কোচ অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকেরা জাপটে ধরতে গিয়েছিল। একসময় ঢাকার ফুটবলে এই ছবি সবাই দেখেছেন। এখন দুর্দিন চলছে। ফুটবলারদের দেখে কেউ ছুটে আসে না। কলকাতার ফুটবলে এখনো সেই ছবি অমলিন। কলকাতার ফুটবলের ছবি বিবর্ণ হলেও ঢাকার ফুটবলের মতো নয়। সমর্থকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তরুণ প্রজন্ম এখনো ছুটে আসে। মন্ত্রীরা এসেছিলেন কালকের অনুষ্ঠানে। তাদের কণ্ঠেও ছিল কলকাতার ফুটবল নিয়ে গভীর ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগান নিয়ে লাল-হলুদ মঞ্চেও কথামালা দিয়ে যুদ্ধ হয়েছে। তার পরও দিন শেষে আবেগ-ভালোবাসা, অনুগত্য দিয়ে তারা ইস্ট বেঙ্গলের জয়গান, ফুটবলের জয়গান গেয়ে গেছেন। কাঁটাতারের বেড়া ছাপিয়ে দুই দেশের ফুটবল দাপটে উড়ে বেড়াবে, সেই স্বপ্নের ছবি চোখে নিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিল সবাই।

ইত্তেফাক/এসএস