নির্মাণ ব্যয় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা

১০ বছরেও চালু হয়নি বাহুবল ট্রমা সেন্টার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৩, ০৩:৩০

১০ বছরেও চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি বাহুবল ট্রমা সেন্টারে। ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণকাজ বিগত ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ট্রমা সেন্টারের অনেক কাজ বাদ রেখেই সেটি হবিগঞ্জ স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিল গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় তা নিয়ে গণপূর্ত ও স্বাস্থ্যবিভাগের চিঠি চালাচালিতে কেটে যায় আরও ১০ বছর।

অবশেষে গত বছরের শেষার্ধে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করে অবকাঠামোগত সংস্থার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সে অনুযায়ী গত ২ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। গত ১১ জুন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. শাহনওয়াজ ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু ট্রমা সেন্টারটিতে প্রয়োজনীয়-সংখ্যক চিকিৎসক, জনবল কিংবা যন্ত্রপাতি না থাকায় তা পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা যাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাবুল কুমার দাস জানান, ট্রমা সেন্টারটি স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে হস্তান্তর করার পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রমা সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। 

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুখলিছুর রহমান জানান, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন না হওয়ায় এবং আনুসঙ্গিত যন্ত্রপাতি না পৌঁছায় এখনো সেটি পূর্ণাঙ্গ ট্রমা সেন্টার হিসাবে চালু হয়নি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য ২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় বাহুবলে ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভবনটি গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেয় গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় সেটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে দুই বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েক বার চিঠি চালাচালিতেই কেটে গেছে ১০ বছর।

জেলার মাধবপুর উপজেলা থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার প্রান্তসীমানা পর্যন্ত প্রায় ৮২ কিলোমিটারব্যাপী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক রয়েছে। এ মহাসড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহতদের প্রতিনিয়ত সিলেট অথবা ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। কিন্তু অনেকের পক্ষেই আর্থিক কারণে ঢাকা-সিলেট নিয়ে দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করছে। বাহুবলে ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু হলে এসব রোগী হাতের কাছে চিকিৎসাসেবা পাবেন বলেই স্থানীয় লোকজন মনে করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম