আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার খসড়া তালিকা আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ তালিকায় ৮০টিরও বেশি সংস্থার নাম রয়েছে। এরপর সংস্থাগুলোর নামসহ পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থাকে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের নীতিমালায় আছে বর্তমানে যদি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তবে নিবন্ধন পাবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত সময় গত ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৯৯টি সংস্থা আবেদন করে। ইসির গঠন করা সাত সদস্যের একটি কমিটি আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সেখান থেকে ৯৪টি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ করে। ঐ ৯৪টি সংস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন দিয়েছে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা।
এর মধ্যে একটি সংস্থা ১১টি ও আরেকটি সংস্থা ৩৬টির বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে। দুই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে মোট ১৮-২০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান ও পরিচালকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। মঙ্গলবার কমিশনের অনির্ধারিত এক সভায় ঐ প্রতিবেদন দুটি উপস্থাপন করা হয়। কমিশন প্রতিটি সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং যেসব পর্যবেক্ষক সংস্থার কার্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি সেগুলোকে বাদ দিয়ে বাকিদের নামের তালিকা তৈরির জন্য ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দাবি বা আপত্তি জানানোর জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর শুনানি শেষে কমিশন নিবন্ধন চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। পর্যবেক্ষক হিসেবে এসব সংস্থার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, সেখানে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিবন্ধনের কাজ চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ইসিতে মোট ১১৮টি সংস্থা নিবন্ধিত আছে। গত ১১ জুলাই এসব সংস্থার নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে ইসির বাছাই তালিকায় থাকা পাঁচটি সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেগুলো হচ্ছে—আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ডেভেলপমেন্ট ফর ডিজাইবল্ড চিলড্রেন অ্যান্ড ওমেন, আজমপুর শ্রমজীবী উন্নয়ন সংস্থা (আসাস) ও অক্ষয় প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সমিতি।
