একদিকে নিম্নচাপ, অন্যদিকে শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমা। এ দুয়ের প্রভাবে কয়েকদিন ধরে উত্তাল রয়েছে সাগর। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি কয়েক ফুট উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে তীরে। ফলে উপকূলে দেখা দিয়েছে জলোচ্ছ্বাস। এতে তলিয়ে গেছে অনেক নিম্নাঞ্চল। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে অনিন্দ্যসুন্দর মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ অংশে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। মেরামতে হাত দেওয়া হলেও জোয়ারে সড়কটি আবারও ভাঙনের কবলে পড়ছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকালের জোয়ারের পানির তীব্র ঢেউয়ে তলিয়ে গেছে কয়েক কিলোমিটার ঝাউবীথির গাছ। নুইয়ে পড়েছে মেরিন ড্রাইভ ও সৈকতের ভাঙন রোধে বসানো জিও ব্যাগ। এ পরিস্থিতিতে সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট হতে কবিতা চত্বর, লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, পেঁচারদ্বীপ, ইনানী, পাথুয়ার টেক, টেকনাফ সৈকতের তীরে ভাঙন আরও তীব্র হবার আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এখনই ভাঙন রোধ করা না হলে, টেকনাফ ও সমুদ্র উপকূলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জোয়ারের চাপে জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপকূলের অসংখ্য মানুষ। ভেসে গেছে মাছের ঘেরও।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকারী নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য এখনো শঙ্কা কাটেনি। সে কারণে চারটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সতর্ক সংকেত ও সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারে অবস্থান করা পর্যটকদের সমুদ্রস্নান কিংবা পানিতে নামার ক্ষেত্রে সর্তক করছে টুরিস্ট পুলিশ ও সী সেইভ লাইফ গার্ড।
মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, সড়কটি দুইটি ইউনিয়নের যোগাযোগ মাধ্যম। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মানুষের দুর্ভোগ চরম পোহাতে হবে।
উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল করিম বলেন, পুরো উজানটিয়া ও মগনামার দক্ষিণ অংশের লোকজন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। দু’বার নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সংস্কার করেছি। পল্লি বিদ্যুতের খুঁটি বহনকারী গাড়ির কারণে সড়কে ফাটল ধরেছে।
কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো উপকূলের মোহনায় নোঙ্গররত অবস্থায় রয়েছে।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার শেহেরীন আলম বলেন, টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত অব্যাহত রয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জিওব্যাগ। যেখানে জিওব্যাগ নেই সেখানকার ঝাউগাছ উপড়ে যাচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় সাগর উত্তালের কারণে পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকালের জোয়ারে অস্বাভাবিকভাবে সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে ঢেউ কয়েক ফুট উঁচু হয়ে তীরে আছড়ে পড়ে। রেঞ্জের কস্তুরাঘাট, কলাতলী, হিমছড়ি বিটের অধীন সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্ট, কবিতাচত্বর, লাবণী, দরিয়ানগর, হিমছড়িসহ মেরিন ড্রাইভ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ঝাউগাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় সৈকতের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে দেওয়া বালিভর্তি জিও ব্যাগগুলো তলিয়ে গেছে।
টেকনাফের ইউএনও কামরুজ্জামান বলেন, সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। মেরিন ড্রাইভের কয়েকটি স্পটে ভাঙন ধরেছে। সেনাবাহিনী সেসব ভাঙনে কাজ শুরু করেছে।
