বিবাদমান দুই দল আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়তই। সেই ঘটনা কখনো কখনো রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়। ঘটছে ভাঙচুরের ঘটনা। এমনই এক ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় আগাম জামিন চাইতে হাইকোর্টে বিএনপিপপন্থী ১৮ আইনজীবী। তাদের জামিন শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, এ বিষয়ে বিচারপতি এম. এ মতিনের রায় রয়েছে। সেই রায় আমরা (আইনজীবীরা) কেউই অনুসরণ করিনি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার জামিন শুনানির এক পর্যায়ে এ মন্তব্য করেন।
এ পর্যায়ে জামিনের বিরোধিতাকারী রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস.এম মুনীর বলেন, বারে একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। হাইকোর্ট বলেন, আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৪ আইনজীবীকে আগাম জামিন দেয়। চার জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
জামিন শুনানিতে ১৮ আইনজীবীর কৌসুলি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী আলী বলেন, আমরা আইনজীবীদের জামিনের জন্য এসেছি। এ পর্যায়ে এজাহারের অংশ বিশেষ পড়ে শোনায় হাইকোর্ট। যেখানে বার সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুরের কথা বলা হয়েছে।
তখন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, জামিন শুনানির জন্য একজন আইনজীবী দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু উনারা তো অনেকজন দাঁড়িয়েছেন। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, মনে হয় আমরা সঠিকভাবে কোর্ট চালাতে পারছি না। আমরা ব্যর্থ হয়েছি। প্রধান বিচারপতির কাছে আমাদের সারেন্ডার করা উচিত।
এসএম মুনীর বলেন, সকলের উচিত কোর্টকে সম্মান করা। বিপক্ষে কৌসুলি যে সুরে কথা বলেছেন সেটা ঠিক হয়নি। এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি তো কোর্টকে অসম্মান করিনি। আমি আইনজীবীদের জামিন প্রার্থনা করেছি।
এসএম মুনীর বলেন, মামলার এজাহার পড়লে বোঝা যায় বারের একটা ঘটনা ঘটেছে। যদি ঘটনা ঘটে থাকে সেই ঘটনা ঘটানো কতটা সঠিক ছিল? এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, বারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা কে বা কারা করেছে আমরা জানি না। তবে যেটা হয়েছে সেটা কেউ ভালোভাবে নেয়নি। সব কিছু করেন কিন্তু ভাংচুরের ঘটনা কেন? এসএম মুনীর বলেন, আগে তো এরকম ঘটনা ঘটেনি।
এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, বিচারপতি এম.এ মতিনের রায় রয়েছে। সেই রায় আমরা কেউই অনুসরণ করিনি। যদি এ কথা বলি তাহলে বলবেন পার্টিসান। এজন্য বলছি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটাই প্রত্যাশা। আইনজীবী মুনীর বলেন, বারে একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। হাইকোর্ট বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। আর এই ঘটনাই তো শেষ নয়। পথ তো আরও খোলা আছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৪ আইনজীবীকে আগাম জামিন দেয়। আদেশে আট সপ্তাহের আগাম জামিনপ্রাপ্ত আইনজীবীরা হলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা গাজী কামরুল ইসলাম সজল, মো. সাগর হোসেন, মো. রেজাউল করিম রেজা, মাহবুবুর রহমান খান, রবিউল আলম সৈকত, মো. নজরুল ইসলাম ছোটন, রেদোয়ান আহমেদ রানজিদ, মো. মাহমুদ হাসান, মো. কামাল হোসেন, মো. আনিসুর রহমান ও খালেদ মাহমুদুর রহমান আদনান। এছাড়া আইনজীবী কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ, নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, মো. কাইয়ুম ও মো. উজ্জল হোসেনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট বলেন, এদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় আগাম জামিন দেওয়া হলো না। এ পর্যায়ে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আইনজীবীদের নিয়ে দুই ধরনের আদেশ না দিলেই আমাদের জন্য মঙ্গল হত। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। তখন হাইকোর্ট বলেন, আদেশ পরিবর্তন হবে না।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাজধানী শাহবাগ থানায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মো. রফিকউল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তবে ওই ঘটনায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ আইনজীবীদের।
আইনজীবীরা জানান, বিচারপতি এম.এ মতিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সভা-সমাবেশ বা মিছিল না করার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। যদিও সেই রায় আওয়ামী বা বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মেনে চলেনি বলে উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
