কিস্তির টাকা জোগাড় করতে জোড়া খুন, তিন আসামির রিমান্ড

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৩, ২১:০৮

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও তিন জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সখীপুরের আদালত। বুধবার (৯ আগস্ট) রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) নাফিউল ইসলাম।
 
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি বাংলাবাজার এলাকার ছাকেদ আলীর ছেলে আবদুর রহমান ওরফে রকমান (৪৫), ছুটু মিয়ার ছেলে আয়নাল হক (৪০) এবং গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মজিবর রহমান (৫৫)।  

এর আগে ডিবি পুলিশ গত সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে ওই মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা করা হয়েছে। এরও আগে গত ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা কামালকে (২৩) ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এবং তার সহযোগী আল আমীনকে (২৪) সখীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪ এর সদস্যরা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) নাফিউল ইসলাম বলেন, জোড়া খুনের মামলায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে  গ্রেপ্তার করা হয়ছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আল আমীন ও মোস্তফা কামাল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া অভিযুক্ত আল আমীনের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোনের সিম উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ২ জনের দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা যায়, স্থানীয় সমিতি থেকে নেওয়া উচ্চ সুদের ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড়ের জন্য ওই দুজনকে হত্যা করে আসামিরা।

হত্যার শিকার মো. শাহজালাল সখীপুরের হামিদপুর বাজারে মুদি দোকান চালাতেন। পাশাপাশি তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট ছিলেন। একই ঘটনায় খুন হওয়া তার চাচা মজনু মিয়া ছিলেন কৃষক। ১৯ জুলাই রাতে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফেরার পথে চাচা-ভাতিজা হত্যার শিকার হন। বাড়িতে ফেরার সময় ব্যবসার নগদ অর্থ নিজের কাছে রাখতেন শাহজালাল। ওই টাকা ছিনিয়ে নিতে গ্রেপ্তার মোস্তফার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড হয়। 

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার কাকড়জান ইউনিয়নের বাঘেরবাড়ি বাংলাবাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী শাহজালাল (৩৫) ও নবু মিয়ার ছেলে কৃষক মজনু মিয়াকে (৪৫) হত্যা করে সড়কে লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। নিহতদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি লাশের পাশেই পড়েছিল। পরের দিন সকালে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। এ ঘটনায় নিহত শাহজালালের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

ইত্তেফাক/পিও