আত্মবিশ্বাসী সাবা 

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৫:০০

অভিনেত্রী সোহানা সাবা অভিনয় করেছেন অরুণা বিশ্বাস পরিচালিত ‘অসম্ভব’ ছবিতে। সরকারি অনুদানের ছবিটি আগামী পূজায় মুক্তি পাবে। সম্প্রতি ছবিটি দেখেছেন সাবা। মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সূত্রে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়েছে তার। সাবা জানান, ছবিটিতে অভিনয় করেছি দেড় বছর হয়ে গেল। গত বছর মুক্তির কথা থাকলেও নানা কারণে তা হয়নি। অনেকটা জোর করে আমরা কয়েকজন বিএফডিসিতে ছবিটি দেখলাম। আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশ্বাস জন্মেছে, ছবিটি দেখার পর দর্শক ভালো লাগা নিয়ে বের হবে।

‘অসম্ভব’ ছবির অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাবা বলেন, ‘মানিকগঞ্জে ছবিটির শুটিং হয়েছে। যাত্রাপালার সেট ফেলে শুটিং করেছি আমরা। সেই সেট আবার কয়েকদিন ছিল। অরুণাদিকে আমি তো বলতাম, তোমার নির্বাচন করা উচিত। স্থানীয় মানুষজনের কাছে তার এত পরিচিতি। কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই তার বাসা দেখিয়ে দিত।’

সাবা আরও বলেন, ‘ছবিটির মূল শক্তি গল্প। আমি সাধারণ একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে পরিপক্ব হয়ে ওঠার গল্প পর্দায় উঠে এসেছে।’

সোহানা সাবার বড়পর্দার ক্যারিয়ার শুরু হয় মিষ্টি মেয়ে কবরী সারোয়ারের হাত ধরে। প্রয়াত এ চিত্রনায়িকার ‘আয়না’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর কাজ করেছেন আফজাল হোসেন ও অরুণা বিশ্বাসের পরিচালনায়। এজন্য নিজেকে সৌভাগ্যবতী ভাবেন সাবা। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে লাকি। কবরী আপা, আফজাল ভাই ও অরুণাদির পরিচালনায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। একজন অভিনয়শিল্পী যদি পরিচালনা করেন তিনি শিল্পীদের বিষয়ে যত্নশীল হন। সেট, প্রপস ও আর্টিস্ট— প্রতিটি বিষয়েই যত্নের ছাপ থাকে। যত্নগুলো যখন পর্দায় আসবে, তখন দর্শকের ভালো লাগবেই।’ 

‘অসম্ভব’ নিয়ে সাবার প্রত্যাশা অনেক। তিনি বলেন, ‘আমি ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী। ইদানিং বাংলা সিনেমার দর্শক বেড়েছে। এটি একটি কারণ তো বটেই। আরেকটি ব্যাপার না বললেই নয়, দর্শক সবসময়ই ছিল। ভালো সিনেমা মুক্তি পেলে ও দর্শককে সে কথা জানালে তারা অবশ্যই সিনেমা দেখতে হলে যায়। যেমন, অনেক দর্শক আমাকে বলে, তারা আমার ‘চন্দ্রগ্রহণ’ হলে গিয়ে দেখেছে। এখন তো চোখের সামনে অনেককিছু আসে। তাই দর্শককে ঠিকমতো জানানো চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবে, আমার বিশ্বাস ‘অসম্ভব’ দর্শক বারবার দেখবে। তারা অন্যদের ছবিটি দেখতে বলবে।’ 

মানিক বন্দোপাধ্যায়ের জীবনকাহিনী নিয়ে আনজীর লিটনের লেখা কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে দেশবরেণ্য নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন নির্মাণ করেছেন ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন সাবা। কাজটি নিয়েও তার আছে মুগ্ধতা। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ ছবিতেও আমি সাধারণ একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। সত্যি বলতে আফজাল ভাইয়ের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা চমৎকার। আমার তো তার কথা শুনতে ভালো লাগে। তার সাথে গল্প করতে করতে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা অনেক বড়ো পাওয়া। এ ছবিতে আমার সহশিল্পী ফেরদৌস আহমেদ। কাজটি ভালো হয়েছে। এ বছরই ছবিটি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।’

অন্যান্য কাজের বিষয়ে সাবা জানান, সহসাই দুটো ছবির ঘোষণা আসবে। এ ছাড়া নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে শিগগির ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ শুরু করব।

ইত্তেফাক/এমএএম