ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

নিপসমে সেমিনার

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০৩:০৫

‘আমরা ডেঙ্গু নিয়ে একটি সংকটাপন্ন সময় পার করছি। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার গত বছর থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্যই আমাদের পৃথিবীর জ্বর হয়েছে এবং সেই জ্বরে বাংলাদেশও আক্রান্ত। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে ভয়াবহভাবে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করেছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নিপসম অডিটোরিয়ামে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শাহ্ মনির হোসেন বলেন, সরকারি-বেসরকারি মনিটরিং, ম্যানেজমেন্ট এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে কখনোই ডেঙ্গু দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সর্বসাধারণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের সেবাদানকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সঠিক পরিকল্পনা করে, তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। তিনি বলেন, এ বছর আজ পর্যন্ত মৃত্যু ৩৫২ জন। সারা দেশে এর চেয়েও অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে, যা রিপোর্টে আসছে না। এজন্য সমন্বিতভাবে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও আপামর জনগণকে এই মারাত্মক ডেঙ্গু বিস্তার রোধে এগিয়ে আসতে হবে।

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান (নিপসম) কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. গোলাম সারোয়ার। 

সভায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতির ওপরে প্যানেল আলোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের নীতিমালা অনুযায়ী, মোকাবিলা করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীদের সম্ভব হলে আলাদাভাবে চিকিত্সা করতে হবে। অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা দেরিতে আসায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আমাদের বুঝতে সময় লাগছে। সারা দেশে জরিপের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের আশপাশের দেশগুলো যেভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, সেই ধারণা নিয়েও কাজ করতে হবে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে ডেঙ্গু সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। সাংবাদিক শিশির মোড়ল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন আছে। কিন্তু তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। যৌথভাবে কাজ করে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে উঠে আসতে হবে। আরো আলোচনা করেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান, সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডিএনসিসি। তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে ডা. আবু জামিল ফয়সাল প্রশ্নোত্তর পর্ব সঞ্চালনা করেন এবং ডা. এস এম শহিদুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম, ডেঙ্গু সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সব সদস্যের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা শেষে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ১০টি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ।

ইত্তেফাক/এসটিএম