নারায়ণগঞ্জে তীব্র গ্যাস-সংকট, লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ১৬:০৩

নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। প্রতি মাসে বিল দিয়েও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। তাই এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

স্থানীয়রা জানায়, গ্যাস না থাকায় ঠিকমতো বাসা ভাড়া হচ্ছে না। পাশাপাশি রান্না করতে গৃহিণীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক লোককে হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। তাই অতি দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি তাদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, গ্যাসের অভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের ২নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া, সাহেবপাড়া, রহিম মার্কেট, শহরের আমলাপাড়া, দেওভোগ, শহীদনগর, বাবুরাইল, নলুয়াপাড়া, বন্দরের মদনগঞ্জ, কুড়িপাড়া, মদনপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেক বাসাবাড়িতে বর্তমানে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। এছাড়া পোশাক শ্রমিকদেরও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

এই এলাকাগুলোতে বিভিন্ন অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে। যেখানে গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে বৈধ গ্যাস গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। তবে প্রায় সময় অভিযান পরিচালনা করেও গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না।

কান্দাপাড়া সাহেবপাড়া বাড়িওয়ালা কল্যাণ সমবায় সমিতির সহসভাপতি শাহ আলম চৌধুরী (সিআইপি) জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রাপ্য গ্যাস প্রাপ্তির জন্য দেন দরবার করে আসছি। ইতোমধ্যে আমরা তিতাস গ্যাসের এমডি, ডিএমডির সঙ্গে একাধিকবার দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেছি। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। হাজার হাজার মানুষ নিয়ে মানববন্ধন করেছি। তবুও আমাদের সমস্যার সমাধান হয়নি। কখন সমাধান হবে তা জানি না।

কান্দাপাড়া সাহেবপাড়া বাড়িওয়ালা কল্যাণ সমবায় সমিতির উপদেষ্টা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা অনেকেই লোন করে বাড়ি করেছি। ব্যাংকের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছি। প্রতি মাসে বিল দিলেও আমরা আমাদের প্রাপ্য গ্যাস পাচ্ছি না। এই সমস্যা সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সমিতির উপ-কমিটির সদস্য সচিব হাজি আনসার আলী বলেন, গ্যাসের দাবিতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিলেও এতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আমির হোসেন বলেন, এলাকাবাসীকে গ্যাস না পেয়েও গ্যাসের বিল দিতে হচ্ছে। বিল পরিশোধ করেও সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি এলাকায় গ্যাস না থাকায় ভাড়াটিয়ারা চলে যাচ্ছে অন্য এলাকায়। ফলে আমাদের বাড়ি ভাড়া হচ্ছে না।

দেওভোগের আবুল মিয়া জানান, গ্যাসের অভাবে ঠিকমতো খাবার তৈরি করতে না পেরে আমাদের অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে। 

বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকার গৃহিণী বিনা বেগম বলেন, গ্যাসের অভাবে ছেলেমেয়েদের না খাইয়ে স্কুলে পাঠাতে হয়। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।

নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মামুনুর রশীদ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। যখন গ্যাসের চাপ বেশি থাকে তখন ওই এলাকায় ঠিকমতো গ্যাস পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এখন চাপ কম থাকায় সব এলাকায় গ্যাস পৌঁছাতে পারছে না। আশা করছি এই সমস্যা খুব শিগিগরই সমাধান হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/আরএজে