কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমন্ডল এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। তাদের একমাত্র ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় ভেঙে যাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় বিডিআর বাজার থেকে বিজিবি ক্যাম্প যাওয়া পাকা সড়কের ভাঙা অংশটি দ্রুত মেরামত করলেও একই এলাকার ইউপি সদস্য শ্যামল মন্ডলের বাড়ি থেকে বারোমাসিয়া ব্রিজ যাওয়া গ্রামীণ কাঁচা সড়কটি মেরামত না করায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তার বরাদ্দে চার লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে চর-গোরকমন্ডল এলাকায় ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি হস্তান্তরের ১৫ দিনের মাথায় ধরলার তীব্র স্রোতে ভেঙে যায়।
চর-গোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন জানান, তবে ইউএনও মহাদয় কয়েক দিন আগে ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি পরিদর্শনে এসেছেন এবং দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।
গোরকমন্ডল এলাকার হাসমত আলী ও খয়রত আলী জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটি ভাঙা অংশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কিছু মানুষ চলাচল করলেও এখনো বড় বড় দুইটি ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
গোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্যামল চন্দ্র মন্ডল জানান, বিডিআর বাজার সংলগ্ন পাকা সড়কের ভাঙা অংশটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মেরামত সম্পূর্ণ হয়েছে। ব্রিজ যাওয়া সংযোগ সড়কটি এলাকাবাসীর সহযোগীতায় একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়ায় কিছু মানুষের দুর্ভোগ কমলেও একই সড়কে এখনো দুইটি স্থানে বড় বড় ভাঙা অংশগুলো মেরামত না করায় চরম ভোগান্তি নিয়ে জমির আইল ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। তিনি এই ভাঙা সড়কটি দ্রুত মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিব্বির আহমেদ জানান, গোরকমন্ডল এলাকায় সড়কের ভাঙা অংশগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ভাঙা অংশ মেরামত সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি ভাঙা অংশগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি খুব অল্প সময়ের মধ্যে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
