ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগান ডার্বি দেখতে ধেয়ে আসছে দর্শক

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ১৫:২৭

ডুরান্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সব আলো কেড়ে নিয়েছে একটা লড়াই। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব আর মোহন বাগান। আজ এই দুই দলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ বিকাল সোয়া ৫টায়। অন্য সব খেলা ভুলে ডার্বি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে দুই দলের পাড় সমর্থকরা। তার পরও কলকাতার ফুটবলে হাহাকার। ষাটর্ধো যারা রয়েছেন তাদের মুখে কলকাতার ফুটবল মরে গেছে। নেই সেই জৌলুস। ‘আমাদের সময় এই ছিল, তখন এটা হতো, ওটা হতো। এখন দর্শকই আসে না।’ সকাল বেলা সল্টলেকে দুই দলের প্রিম্যাচ সংবাদ সম্মেলনেও এমনটাই আঁচ করা গেল। এমন সব কথা শুনে অনেকেই হয়তো পিছু হটবেন। কিন্তু কৌতূহলী মনটাকে যদি কিঞ্চিত উসকে দেওয়া যায় তাহলে দেখা যায় এখনও বাংলাদেশের মোহামেডান-আবাহনীর চেয়ে কলকাতার ডার্বির উত্তাপ শত গুণ এগিয়ে।

দর্শক টান আছে। জোয়ারের মতো ধেয়ে আসছে লাল-হলুদ আর সবুজ-মেরুনের সমর্থকরা। ডার্বি দেখার জন্য তিন দিন ধরে আগাম টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ভাবা যায়, একটা টিকিটের জন্য রাত ২টায় লাইন ধরছে দর্শক। সীমান্ত এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন রবি। রিসরা থকে সুদীপ্ত ঘোষ এসে দাঁড়িয়েছেন লাইনে। কিন্তু টিকিট মিলছে না বলে তার রাগ ক্ষোভ টিকিট সিস্টেমের ওপর। দেলোই বেলুরের মঠ থেকে আসা সুদীপ্ত বলছিলেন, ‘এটা কোনো কথা হলো? বলুন তো মশাই। আমরা টিকিটের জন্য ভোর ৬টায় এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এখন বেলা গড়িয়ে গেল। কাউন্টারের মুখেই হাতই রাখতে পারছিনে।’

ইস্ট-বেঙ্গল ক্লাব, মোহন বাগান এবং মহামেডান—তিন ক্লাবই কাছাকাছি দূরত্বে। আরো পরিষ্কার বললে হাঁটার পথ। মাঠের ভেতরে গাড়ি, মোটরবাইকে ভরে গেছে। দুই দলের হাজার হাজার সমর্থকদের ভিড়। এই তিন ক্লাবের বক্স অফিস থেকে টিকিট বিক্রি হচ্ছে।  টিকিট যেন সোনার হরিণ। ১০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় কালোবাজারির হাতে। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম কাউন্টার হতে টিকিট নিতে চায়। শত শত সমর্থক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে। হকার এসে খাবার বিক্রি করছেন। শরবত, ঝালমুড়ি—কি নেই সেখানে। লাইনে অপেক্ষমাণ ক্ষুধার্থ সমর্থক উদর পূর্তি করছেন। কিন্তু লাইন হারাতে রাজি না। সমর্থকদের পেয়ে মোহন বাগানের জার্সি, স্টিকার, ক্যাপ, উত্তোরীয়, ব্যান্ড, চাবির রিং, কোট পিন, হাফ প্যান্ট এনে বিক্রি করছেন বাবু দা। একই চিত্র ইস্ট বেঙ্গলের ডেরায়।

মহামেডান, ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগানের ক্লাবেই নিজেদের ভেন্যু। এখানেই লিগের খেলা হয়। শুধু এ ধরনের বড় ম্যাচ হলে সল্টলেকে যুব ভারতীতে চলে যায় খেলা।  সেই খেলার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ক্লাবের স্টেডিয়াম কাউন্টারে। দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করতে ঘোড়ার পিঠে বসেছেন পুলিশ।  লাইন ভাঙলেই ঘোড়া এসে সামনে দাঁড়ায়। বসির হাট থেকে আসা ছাত্র জয় অধিকারী,‘দেখুন স্যার বক্স কাউন্টারে টিকিট কিনতে গেলে ওরা নাম ফোন নম্বরটিও লিখে নিচ্ছে। এতে দেরি হচ্ছে। আপনারা কিছু বলুন।’  ঘিরে ধরা ২০-২৫ জন তরুণের কথায় কাউন্টারে বসা বিবেক এবং সুভাশিষ বললেন,‘আমাদেরকে যা বলা হয়েছে তাই করছি।’ একটু পরেই কয়েক জন তরুণ সমর্থক এসে জানিয়ে গেলেন থ্যাংক ইউ স্যার। এখন আর নাম ফোন নম্বর নিচ্ছে না। ওরা বুঝে গেছে কোথায় ওরা ভুল করছে।’

 মোহন বাগান কর্তা দেবাশিষ দত্ত নিজ রুমে বসে আছেন। তিনি জানালেন,‘আরে মশাই, এত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। সবাই টিকিট চাইছে।’  কেন এই বিস্ফোরণ? বললেন দেবাশিষ দত্ত, ‘প্রথম কথা হচ্ছে এটা মৌসুমের প্রথম ডার্বি। দ্বিতীয় হচ্ছে আমরা  (মোহন বাগান) আইএসএল চ্যাম্পিয়ন, তৃতীয় হচ্ছে আগে ‘আর মোহন বাগান দারুণ খেলছে। হকি, ক্রিকেট ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সব মিলিয়ে মোহনবাগানের সাকসেস আছে বলেই এই চাহিদা বেড়ে গেছে।’

এই কর্মকর্তা জানালেন আমাদের সদস্যদের জন্য ৫ হাজার টিকিট দেওয়া হয়েছে। বাইরে যাদের দেখেছেন তাদের টিকিট আমরা বিক্রি করছি না। ওটা আয়োজকরাই করছে। আমরা মেম্বারদেরকে ফ্রি টিকিট দিচ্ছি।’

ইস্ট-বেঙ্গলের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচ জিতেছে মোহন-বাগান। মোহন-বাগান কাগজে কলমে অনেক শক্তিশালী হলেও মোহন বাগান ধরেই নিচ্ছে আজও জিতে যাবে। কিন্তু মোহান বাগান কি সেই জয় নিয়ে ভাবছে নাকি অন্য কিছু। আগামী বুধবার এএফসি কাপে প্লে অফের প্রথম রাউন্ডের খেলা আছে। জিতলে আবাহনী-মালদ্বীপের ক্লাবের বিপক্ষে জয়ী দলের সঙ্গে ম্যাচ। একদিকে সেই দুশ্চিন্তা। অন্যদিকে ডার্বি জয়ের পরিকল্পনা। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ