ভাড়াটিয়ার হামলায় মালিকসহ আহত ১০, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ২১:৪৫

মোংলায় ভাড়াটিয়ার হামলায় বাড়ির মালিকসহ অন্তত ১০ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। এ সময় গুরুত্বর জখম ৫ জনসহ ১৩ জনকে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে পুলিশ আটক করেছেন। এর মধ্যে একজন স্কুল শিক্ষিকাও রয়েছেন। 

শুক্রবার (১০ আগস্ট) পৌর শহরের জয়বাংলা এলাকায় এ হামলার ঘটনায় শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আমড়াতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন সাইফুজ্জামান প্রিন্সের ছোট ভাই টিপু হাওলাদার। 

টিপু হাওলাদার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫ সালে পৌর শহরের জয়বাংলা এলাকার মজনিয়ার শেখ ও অহিদুলের কাছ থেকে তার বড় ভাই সাইফুজ্জামান প্রিন্স ৩৫ দশমিক ৫৩ শতক জমি ক্রয় করে বাড়ি করেন। এরপর সেই থেকে তার পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। 

এরপর গত কয়েক বছর আগে স্থানীয় সোহেল ও ফাতেমা দম্পতির কাছে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে তারা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের আমড়াতলা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ভাড়া থাকার সুযোগে ওই বাড়ির জাল কাগজপত্র তৈরি করে একটি দলিল করেন ভাড়াটিয়া সোহেল ও ফাতেমা। 

এছাড়া গত প্রায় দেড় বছর ধরে ভাড়ার টাকাও পরিশোধ করছিলেন না তারা। ভাড়ার বকেয়া টাকার জন্য ও জাল দলিলের বিষয়ে জানতে পেরে শুক্রবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নিজ বাড়িতে গেলে ভাড়াটিয়া সোহেল-ফাতেমা গং তাদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বাড়ির মালিক সাইফুজ্জামান প্রিন্স (৪৫) ও নিকটাত্মীয় সোবাহান চৌকিদার (৩৮), রাসেল ফকির (২৭), সুমি আক্তার (২২), সবুজ (২০), রাসেল শেখ (২০), মিজান শিকদার (৩৫), তৈয়রব শেখ (৫০), শরিফুল শেখ (২২) ও টিপু হাওলাদার (৩৫) গুরুতর  আহত হন। 

এর মধ্যে গুরুত্বর জখম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাইফুজ্জামান প্রিন্স (৪৫), রাসেল ফকির (৩৮) ও সবুজ (২৫)সহ ১৩ জনকে আটক করেন পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ঘটনার সময় উপস্থিত না থাকলেও সাইফুজ্জামান প্রিন্সের মা শামসুন্নাহার বেগম, স্ত্রী ও আমড়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ঝুমুর আক্তার এবং তার মেয়ে মারজিয়া আক্তারকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় হামলার শিকার ১০জনসহ ১৫জনকে আসামি করে ভাড়াটিয়া শেখ সোহেলের দায়েরকৃত মামলায় ৯ জনকে আটক করে শনিবার বাগেরহাট জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
 
এদিকে বাড়ির মালিক সাইফুজ্জামান প্রিন্সের ভাই টিপু হাওলাদার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, নিজেদের বাড়িতে উঠতে গিয়ে ভাড়াটিয়ার হামলার শিকার হলাম আমরা পরিবারসহ। এ ঘটনায় পুলিশ কোনো সহযোগীতা না করে উল্টো তাদের লোকদেরকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। 

তিনি এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আরও বলেন, আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর জখম করে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সোহেল-ফাতেমা দম্পত্তি নিজেদের আহত করার নাটক সাজিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় টিপুর স্ত্রী জান্নাত বেগম বাদী হয়ে মোংলা থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৩ জনকে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পুলিশকে ফোন দিলে থানা থেকে আহতদের হাসপাতালে ফের চিকিৎসার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। 

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, হাসপাতালে ভর্তিকৃত জখমি কোনো রোগীকে তাদের অনুমতি ছাড়া পুলিশ এভাবে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে পারেন না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহেল-ফাতেমা দম্পত্তি তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলা অবস্থায় সাইফুজ্জামান প্রিন্স ও তার লোকজন বাড়ি দখল নিতে আসলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তারাসহ তাদের লোকজন আহন হন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন তারা। 

এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন মুঠোফোনে বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবো।
 
মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার বলেন, আদালতের রায়ে বাড়িটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় প্রিন্স হাওলাদার। এ নিয়ে সংঘর্ষের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ও প্রিন্সসহ ১৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আটককৃতদের মধ্যে ৯ জনকে আদালতে পাঠানো হয় ও বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আনা পক্ষপাতের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। 

 

ইত্তেফাক/পিও