কথার যুদ্ধ করছে সমর্থকরা

অন্য রকম জন্মদিন পালন করল ইস্ট বেঙ্গল

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩, ১৪:৪০

ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রতি বছর ১৩ আগস্ট স্পোর্টস ডে পালন করে। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সচিব ছিলেন দীপক দাস। ডাক নাম ছিল পল্টু। একসময় ইস্ট বেঙ্গলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলতেন। ভারত এবং বাংলাদেশের ফুটবল কর্মকর্তাদের কাছে যিনি পল্টু দাস নামে ব্যাপক পরিচিত। প্রয়াত এই মানুষটি সংগঠক হিসেবে সুখ্যাতি ছড়িয়ে ছিলেন বলেই ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রতি বছর ১৩ আগস্ট তার জন্মদিবস পালন করে। এবারের জন্মদিবসটি আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আগের রাতে মোহন বাগানের বিপক্ষে ডার্বিতে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। সেই আনন্দ কাল সারা দিন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সাবেক ফুটবলারদের মধ্যে জমাট আনন্দ দিয়েছে।

জন্মদিনের কথা নাকি পাঁচ বছর পর ডার্বি জয়ের কথা—কোনটা হবে সবই হয়েছে সাবেক অধিনায়ক বিকাশ পাজি, সাবেক গোলরক্ষক ভাস্কর গাঙ্গুলিদের মধ্যে। বরাবারের মতো এবারও সাবেক অনেক ফুটবলার এসেছিলেন, কিন্তু এসেই জন্মদিনের চেয়ে ডার্বি জয় সবাইকে চাঙ্গা করে দিল। অনেক সমর্থক জানত এই দিনটা কীভাবে উদযাপন করে। ডার্বি জয়ের বাড়তি উত্সাহ নিয়ে তারাও ছুটে এসেছিলেন লাল হলুদ টেন্টে। পুরো ক্লাব সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগের দিন থেকে ঘর সাজানোর কাজ চলছিল। ডার্বি জয় পল্টু দাসের জন্মদিন রঙের বাড়তি প্রলেপ দিলেও সমর্থকরা এখনো মোহন বাগান সমর্থকদের একহাত নিয়েই চলেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোমাঞ্চিত সমর্থকরা খেলায় জিতেও সবুজ মেরুন মোহন বাগানের সমর্থকদের বলছে, ‘দেখলি আসল বাঘ কারা।’ কারণ মোহন বাগান সমর্থকরা গ্যালারিতে বড় ব্যানারে বাঘ আর সিংহের ছবি এঁকেছিল। মোহন বাগানের বাঘ ইস্ট বেঙ্গলের সিংহকে কাবু করছে। অন্য একটা ব্যানারে ছিল কুকুর বাঘের সাজ নিলেও সে কুকুরই থাকে। ইস্ট বেঙ্গলকে নিয়ে কেউ লিখেছেন দুই চোখে ভরা স্বপ্ন, বুকেতে দাবানল, লড়াই এর রূপকথা ও আমার ইস্ট বেঙ্গল।’

টানা আট ম্যাচ জিততে হেরেছে ইস্ট বেঙ্গল। ৯ নম্বর ম্যাচটাও জয় দেখতে  চেয়েছিলেন মোহন বাগান। ২০১৯, ২৭ জানুয়ারি ইস্ট বেঙ্গল শেষ ডার্বি জিতেছিল। পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন মাত্র এক মাস আগে ক্লাবে যোগ দেওয়া নন্দকুমার। তার গোলেই শাপমোচন হয়েছে।

ডার্বি ম্যাচের টিকিট নিয়ে ঝামেলায় ইস্ট বেঙ্গল কর্মকর্তা ক্রীড়া মন্ত্রীর রুমে বৈঠক করতে বসে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বনিবনা না হওয়ায়। আর এটা দেখে  মোহন বাগান কর্মকর্তা দেবাশিষ দত্ত মন্তব্য করেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল হেরে যাবে। ৯-এ ৯ হবে। এ কারণেই ইস্ট বেঙ্গল সেটা মানতে পারছে না।

মোহন বাগান ইস্ট বেঙ্গলের বিপক্ষে ড্র করলেই হাসতে হাসতে নকআউটে উঠে যেত। আর এখন মোহন বাগান হেরে গিয়ে তাদের আকাশে কালো ঘন মেঘ। যে দলটা ডুরান্ডকাপে ফেবারিট ছিল, নকআউটে উঠে গেল বলে। সেই দলটার সামনে এখন ইস্ট বেঙ্গল ফেবারিট হয়ে গেল আর মোহন বাগান বাইরে বসে তাকিয়ে দেখছে শেষ ম্যাচে কী হয়। ইস্ট বেঙ্গল-পাঞ্জাব ম্যাচের অঙ্কের হিসাব বলে দেবে মোহন বাগান আছে কি না। ইস্ট বেঙ্গল জিতলেই মোহন বাগান বাদ। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ