নারায়ণগঞ্জে দিগুবাবুর বাজারের মীর জুমলা সড়ক দিয়েই নগরীর প্রধান এই বাজারে প্রবেশ করতে হয় ক্রেতাদের। সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টির পানিতেই পাঁক-কাদায় তলিয়ে গেছে রাস্তাটি। যার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট চৌকিতে কাচা সবজি, মাছ, মুরগী, আলু-পেয়াজ ও ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতেরা।
তবে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট কাদা, মাছের পানি, ফেলে দেওয়া পঁচা সবজি ও বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে জমে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে যেন বাজারে ভেতরে প্রবেশ করাই অসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে তবুও এ সময় যাদের বাজারে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। তারা খুব বিব্রতকর অবস্থায় দুর্গন্ধে নাক চেপে বাজার করেছে।
জামতলার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান মুন্সি ভোগান্তির কথা জানিয়ে বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকছি। সেখানকার বাজার খুব বড় না কিন্ত অনেক পরিচ্ছন্ন। আর আমাদের নারায়ণগঞ্জ শহরের কোনো বাজারই পরিচ্ছন্ন না। বাজার থাকবো পরিস্কার কিন্তু দেখেন কাদায় কোনো দিকেই পারা দিতে পারতাছি না। সিটি করপোরেশন খালি ট্যাক্স নেয় আর বড় বড় কথা কয়। কাজের বেলা ঘণ্টা!
টানবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মিলন বিশ্বাস বলেন, দিগুবাবুর বাজারের মুরগি পট্টির সামনে আসলে সারাদিন ময়লার পাহাড় দেখা যায়। এখানে আসলে গন্ধে দাঁড়াতে পারি না। কেমনে যে বাজার করি তা আমরাই জানি। আর আজকের তো যে দিন বৃষ্টি থাকে সে দিন ময়লা দিয়া জামা কাপড় সব নষ্ট হয়। মনে করেন বাজারে আসলে আমাদের মাথাই ঠিক থাকে না।
অথচ মীর জুমলা সড়কটি চালু করার দাবিতে গণমাধ্যম কর্মীরা ও সচেতন নাগরীক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালিন পৌরসভা বিরাট অংকের ব্যয়ে সড়কটি পুন:নির্মাণ করে প্রশাসনের সহায়তায় তা যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। শহরবাসীর দাবির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল সড়কটিকে দখল করে বাজার সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যপারে নাসিক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী একাধীক অনুষ্ঠানে সড়কটি দখল করে বাজার গড়ে তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বছরের পর বছর সড়কটি বন্ধ করে বাজারে পরিণত করা হয়েছে। মাছ থেকে শুরু করে শাক-সবজি এমন কি অস্থায়ীভাবে মুরগি বিক্রির দোকান বসিয়ে সড়কটিতে যান চলাচল তো দূরের কথা মানুষ চলাচলের অনুপেযাগী হয়ে পড়েছে। আর এই সড়কটি বন্ধ থাকায় নগরীতে যানজট নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সময় মেয়র আইভী এ বাজার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কিন্তু এখন তাকে এ বাজার নিয়ে আর কিছু বলতে দেখা যায় না।
জানা গেছে, বাজারের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি বাজার নিয়ে প্রশিক্ষণ সভা ও ভেতরের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময় ইজারাদারদের নিয়ে নগর ভবনে সভা করে থাকেন। তবে সেসব সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সেখানেই সমাপ্ত হয়ে যায়। কারণ নগরীর কোনো বাজারেই নাসিকের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। এবার সেটা নিরাপদ খাদ্য হোক কিংবা পরিচ্ছন্নার বিষয় হোক।
অভিযোগ করে দিগুবাবুর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমাগো কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়া যাইতাছে। এই বাজারের ইজারাদার মতিন মিয়া কে? মেয়রের ভাই উজ্জল সাবের বন্ধু। আসলে সে তো কিছুই না সবই উজ্জল সাবের। এতো ট্যাকা তোলেন বাজার থেকা। সব টেকাই কি পকেটে ভরা লাগে? কিছু টাকা তো খরচ করেন। তাহলে তো বাজারটা কতো উন্নত করা যায়। তারা খালি নিতে চায় কিন্তু দিতে চায় না!
