খানা খন্দে ভরে গেছে রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর রশিদিয়াপাড়া সড়ক। রাঙ্গুনিয়া কলেজ সড়ক নামে এটি এলাকায় পরিচিত। সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে এটি। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে পৌরসভার ইছমাতি গ্রাম ও উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষ। ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
রাঙ্গুনিয়া সরকারী কলেজ গেইটের নিকটে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে সংযোগ থেকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা এবং মরিয়মনগর ইউনিয়নের সীমানায় কর্নফুলি নদীর পাড় পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা এই সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ করে।
এটি রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ এবং রাঙ্গুনিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদেরও যাতায়তের রাস্তা। মরিয়মনগর, রশিদিয়াপাড়া গ্রাম এবং কর্ণফুলি খেঁয়াঘাটে নদীর ওপারে শিলক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা এই সড়ক। সড়কে রয়েছে যাত্রীবাহী যানবাহনের নিয়মিত সার্ভিস। মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভারী যানবাহনও চলাচল করে। সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে দুরাবস্থা লেগে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্নস্থানে পিস ও ইটের সলিং ওপড়ে গেছে। বিস্তীর্ণ সড়কে বড় বড় অসংখ্য গর্তে বেহাল অবস্থা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলোতে পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। মানুষের চলাফেরায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বেহাল সড়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী ভারী এবং হালকা যানবাহন।
সড়কে সিএনজি অটোরিক্সাচালক মোহাম্মদ হারুন বলেন, গত তিন বছর ধরে সড়কে বেহাল অবস্থা । চলাচলে প্রায়ই সময় গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে।
মরিয়মনগর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হিরু বলেন, বৃষ্টির পানিতে সয়লাব বড় বড় গর্তের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে সড়কটি ক্রমে ভেঙে যাচ্ছে। মানুষের দুরাবস্থা বাড়ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি জরুরিভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, ১ কিলোমিটার ৩৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের জন্য গত দুই বছর আগে টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল। ঠিকাদারের মৃত্যুর কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে সড়কের সংস্কার প্রকল্প পুন:অনুমোদনের জন্য কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এলজিইডি চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী সুমন তালুকদার বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তথ্যমন্ত্রীর ডিও লেটারসহ কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই অনুমোদন হয়ে যাবে।
