একমাত্র অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চুয়াডাঙ্গায় দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি একটি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৩৮ সাল, আর এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম চিনি কল। তবে উপজাত হিসেবে এই কারখানা থেকে মদ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ পণ্য বিক্রির রেকর্ড করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্যগুলো হলো চিনি, মদ, জৈব সার, চিটাগুড়, মণ্ড।
চিনিকলের ডিস্টিলারি ভারপ্রাপ্ত (জি এম) রাজিবুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠার ৮৫ বছরের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেছে ৪৩৮ কোটি ৯১ লাখ ২৯ হাজার ৯৮ টাকা। মালামাল বিক্রি বাজারজাত ও সরকারের ১৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে মোট লাভ হয় ১৫২ কোটি টাকা। এ অর্থ বছরে চিনি কারখানায় ৬৮ কোটি ১৬ লাখ লোকসান পুষিয়ে মিলটি নিট লাভ করেছে ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন জানান, চিনি কারখানার লোকসান কমাতে আধুনিকায়নের কাজ চলমান। তবে সামগ্রিকভাবে কেরু চিনিকল কমপ্লেক্সেটি এ বছর সরকারের ১৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েও নিট ৮০ কোটি টাকা লাভ করেছে। তাছাড়া উন্নত আখেরজাত ও বেশি রিকোভারি সম্পন্ন আখ উদ্ভাবনে গবেষণা কেন্দ্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এবং শিল্প ও কৃষিবান্ধব সরকার এ বছর প্রতি মণ আখ মিলগেটে ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা কিনেছে এবং আসছে বছর থেকে প্রতি মণ আখ ২৪০ টাকা কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে কারণ এলাকার চাষীরা যেন নতুন করে আবার আখচাষে আগ্রহী হয়ে উঠে। আশা করা যায় আখচাষ বৃদ্ধি পেলে কেরু চিনিকল কমপ্লেক্সের সব ইউনিটে লাভ করতে সক্ষম হবে।
মিল কর্তৃপক্ষ জানান, এ বছর কেরুর ডিস্টিলারি থেকে ডিনেচার্ড স্পিরিট, রেক্টিফাইট স্পিরিট, বিলেতি ও দেশি বাংলা মদসহ অন্যান্য পণ্য মিলিয়ে মোট ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২০ লিটার পণ্য উৎপাদন হয়েছে। দর্শনা ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিক্রয় কেন্দ্রসহ দেশে মোট ১৩টি ওয়্যারহাউজের মাধ্যেমে এসব পণ্য বিক্রিতে স্মরণকালের রেকর্ড ভেঙেছে।
চিনিকলের জি এম ((প্রশাসন) মো. ইউসুপ আলি ও ডিজিএম (খামার) সুমন কুমার সাহা জানান, এ বছর কেরুর কৃষি খামারের সাড়ে তিন কোটি টাকা লোকসান পুষিয়ে ৩০ বছর পর ২০ লাখ টাকার উপরে এবং আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে নির্মিত জৈব সার কারখানা থেকে ২৪ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছে।
কর্তৃপক্ষ জানান, সামগ্রিকভাবে কেরু চিনিকলে লোকসান নেই।
