কলেজের একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে হজ করতে সৌদি আরব যান। হজের পর দেশে ফিরে এসে দেখেন তার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল হয়ে গেছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যার ওপর দায়িত্ব দিয়ে যান, তিনিই ওই পদ দখল করেছেন। এমনই ঘটনা ঘটেছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার ডা. মো. আমিনুর রহমান টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজে।
পদ হারানো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নাম মো. মাসুদুর রহমান। আর বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদে রয়েছেন, তার নাম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এরই মধ্যে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওই কলেজের নামও পরিবর্তন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির নাম রাখা হয়েছে রঘুনাথপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ।
ভুক্তভোগী মো. মাসুদুর রহমান বলেন, কলেজের সাচিবিক বিদ্যার (সাঁটলিপিকার) প্রভাষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ ও কলেজের যাবতীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে তিনি ২৪ মে হজে যান। হজ শেষে দেশে ফেরার পর তিনি ৯ জুলাই কলেজে যান নজরুল ইসলামের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে যান। এ সময় নজরুল তাকে ভয়-ভীতি দেখান। তিনি (মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম) কলেজের যাবতীয় কাগজপত্র ও টাকা চুরি হয়ে গেছে মর্মে জানিয়ে ২৪ জুন ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ করেন। অথচ নজরুল ইসলাম নিজেই কাগজপত্র ও মালামাল গোপন করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে। এমনকি নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির নাম ডা. মো. আমিনুর রহমান টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের পরিবর্তে রঘুনাথপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। এমনকি পরিবর্তিত নাম দিয়ে কলেজের রশিদ বই ছাপিয়ে রীতিমত অবৈধ বাণিজ্য করছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগও দিয়েছেন।
রঘুনাথপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি এম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০২১ সালের ১৯ জুলাই ৬ মাসের জন্য এই কলেজের একটি এডহক কমিটি গঠন করেন। এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ওই কমিটি চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত কলেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজের ভাউচার রেজিস্টার, ক্যাশ খাতা, রেজুলেশন খাতা এবং এফডিআরের কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করেনি। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, ‘কলেজের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। আগের যিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান তিনি শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কলেজের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকেও অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। অভিযোগগুলোর পেছনে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি এবং সব অভিযোগের সমাধান করেই কলেজের অধ্যক্ষ কে হবেন-তা চূড়ান্ত করা হবে।’
