ঠিকাদারের গাফিলতি, বন্ধ সেতুর নির্মাণকাজ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩০

আড়াইহাজার-পুরিন্দা সড়কের কামরানীরচর বাজারসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ নির্মাণকাজ আবার শুরু হবে তা বলতে পারছেন না কেউ। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ। তাছাড়াও স্থানীয় সরকারের অধীনে নির্মিত উপজেলার সবগুলো কাজই ধীরগতিতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ।

জানা যায়, দ্বিতীয় নগর উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি)-এর আওতায় আড়াইহাজার-পুরিন্দা সড়কের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ২০২০ সালে ৩২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এপ্রোচসহ এর মূল্য দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঐ বছরের নভেম্বরে সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের মে মাসে সেতু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে দশ শতাংশ কাজও শেষ করতে না পারায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ থেকে নির্ধারিত সময়ের পর আরো ছয় মাস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করলেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর ২০ শতাংশ কাজ মাত্র শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় রডগুলো মরিচায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেতু এপ্রোচ এরিয়া সড়কের আগের পিচ তুলে ফেলায় সড়কে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে সেতুর পাশ দিয়ে সড়কে   অটোরিকশা ভ্যানের মতো ছোটখাটো যান চলাচলেও বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অটোরিকশা চালক মোক্তার হোসেন জানান, ‘গত তিন বছর ধরে এই সেতুর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীর ওপারে যাওয়া বন্ধ। অফিসাররা আসে আর যায়, কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।’

একই কথা বলেন চামুরকান্দিন গ্রামের রিপন মিয়া। তিনি বলেন, এই সেতু দিয়ে ব্রাহ্মন্দী, দুপ্তারা, সাতগ্রাম ও আড়াইহাজার পৌরসভার প্রায় ৩০/৪০ গ্রামের লোকজন চলাচল করে। সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় মানুষের কষ্টের সীমা নেই। কামরানীরচরের বাসিন্দা মাসুম চৌধুরী, মোমেন মিয়া, আসকর আলী, জুয়েল মিয়াসহ বেশ কয়েক জন এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় তিন বছর সময় হতে চলল, কিন্তু সেতুর পাঁচ ভাগের এক ভাগ কাজও শেষ হয়নি। পিলার নির্মাণের সময় নিম্নমানের কাজ হয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দিলেও কাজ হয়নি। পৌরসভার কাউন্সিলর রাশিদা আক্তার জানান, পুরাতন সেতুটি ভেঙে আধুনিক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে দেড় বছরের কাজ প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি।

তবে ঐ প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার খোকন মিয়া জানান, বুয়েট থেকে ওয়েট টেস্টের রিপোর্ট আসার জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। রিপোর্ট পেলেই কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, সেতুর কাজটি নিয়ে ঠিকাদার খুবই ভোগাচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ না করলে তার বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি