কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি জেলায় গত আট দিন টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টির পানির প্রায় পুরোটাই খাল-বিল, নালা-নর্দমাসহ বিভিন্নভাবে গড়িয়ে কাপ্তাই লেকে এসে পড়ছে। আট দিনের বৃষ্টির পানিতে কাপ্তাই লেকে প্রয়োজনের চেয়ে ১১ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। লেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাইয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনও বেড়েছে।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের জানান, টানা বৃষ্টির ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র উপকৃত হয়েছে। তিনি বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস ভরা বর্ষা মৌসুম থাকলেও এত দিন বৃষ্টি হচ্ছিল না। বৃষ্টির অভাবে কাপ্তাই লেকে পানির স্তর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছার উপক্রম হয়েছিল। ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষমতা থাকলেও ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছিল না। পাঁচটি ইউনিট সচল থাকলেও চালানো হতো মাত্র একটি ইউনিট। পানির অভাবে বিদ্যুত্ উত্পাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। কাপ্তাই লেকে রুলকার্ভের (পানির পরিমাপ) চেয়ে পানির স্তর ১০ ফুট নিচে নেমে আসে। কিন্তু গত ৩ আগস্ট থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। টানা ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই কয় দিনের বৃষ্টিতে কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। লেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচটি ইউনিটের সবগুলোই এখন বিদ্যুত্ উত্পাদনে সচল রয়েছে। বর্তমানে ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পন্ন হচ্ছে। উত্পাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রুলকার্ভ অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে এখন (১৪ আগস্ট) পানি থাকার কথা ৯২ দশমিক ৫২ ফুট মিন সি লেভেল। কিন্তু লেকে এখন পানি রয়েছে ১০২ দশমিক ৪৬ ফুট মিন সি লেভেল। পাহাড়ি ঢল, ঝরনাধারা এবং উজান থেকে এখনো পানির ধারা অনবরত কাপ্তাই লেকে এসে পড়ছে। এর ফলে প্রতিদিন লেকে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাপ্তাই লেকে সর্বমোট পানি ধারণক্ষমতা রয়েছে ১০৯ ফুট মিন সি লেভেল। অবস্থাদৃষ্টে অনুমিত হচ্ছে, খুব সহসা কাপ্তাই লেকের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। লেকের পানি ১০৯ ফুট এমএসএল পর্যন্ত আসার আগেই স্পিলের ১৬টি গেট খুলে দিয়ে বাড়তি পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেওয়া হবে।
কর্ণফুলী জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র বিদ্যুত্ উত্পাদন করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে থাকে। বিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ অত্যন্ত কম হওয়ায় এই কেন্দ্র বরাবর লাভে থাকতে পারছে। তবে লেকে পর্যাপ্ত পানি থাকলে বিদ্যুত্ উত্পাদন আরো বৃদ্ধি করাও সম্ভব হবে। এখন ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হলেও এই কেন্দ্রের আরো ৪০ মেগাওয়াট বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা রয়েছে। জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উত্পাদন আরো বাড়ানো হতে পারে বলেও সূত্র আশা প্রকাশ করেছে।
