দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনশনকারী প্রেমিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার মাদিলাহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিক আল আমিন ওই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে।
প্রেমিকা দশম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরী। বিয়ের দাবি নিয়ে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অনশন শুরু করলে ওই বাড়ির লোকজনের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। পরে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী জানায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রেমিক আল আমিন তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো শারীরিক সম্পর্ক করে আসছে। বিয়ের অগ্রিম যৌতুক বাবদ কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রেমিক আল আমিন। এখন বিয়ের কথা বললে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর মধ্যেই আল আমিন অন্যত্র বিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিয়ের দাবিতে আল আমিনের বাড়িতে অনশনে বসে। এ সময় প্রেমিকের পরিবারের লোকজনের হাতে সে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দিয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) রাতেই কিশোরীর মা বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতিপূর্বে ওই কিশোরী প্রেমিক আল আমিনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। যা আদালতে চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার প্রেমিকা ওই স্কুলছাত্রী কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দিনমজুর হতদরিদ্র পিতা-মাতার মেয়ে ওই স্কুলছাত্রী। ছনের ঘেরাবেড়া দিয়ে তৈরি টিনের ছাপড়ার ঘর দুইটি সংস্কারের অভাবে হেলে পড়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়বে। কয়েকটি এনজিওর ঋণের কিস্তির চাপে পরিবারটি বেসামাল হয়ে পড়েছে। কিস্তির অর্থ জোগার করতে গিয়ে ঘরবাড়ি মেরামত করাতে পারছে না।
অভিযুক্ত প্রেমিক আল আমিন বলেন, তার সঙ্গে শুধু মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। একদিন ওর পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলাম। এর বাইরে কোনো কিছুই হয়নি। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক সম্পর্কের বিষয়টি মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বেতদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল কুদ্দুসকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় প্রেমিকা কিশোরীর মা বাদী হয়ে রাতেই ৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি আল আমিনের বড়ভাই জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই প্রেমিকা কিশোরী তার প্রেমিক আল আমিনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
