রোববার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দেশে ভোটাধিকার নেই বাকস্বাধীনতাও নেই: জি এম কাদের

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৩, ০১:৩০

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, মানুষের কোনো রকম অধিকার নেই বললেই চলে। মানুষের ভোটাধিকার নেই, কথা বলার স্বাধীনতাও নেই। মানুষের ভাত-কাপড়ের নিরাপত্তা নেই। সংবিধান অনুযায়ী, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সেগুলোর ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেশের মানুষকে যে কোনোভাবেই হোক, মুক্ত করতে হবে।

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের টাউন হল মিলনায়তনে লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। দেশে একটা সুন্দর সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনিব্যবস্থা সঠিক হোক, জনগণ তাদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারে—এটাই কামনা করছি। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আমি মনে করি এটা অগ্রসরমান। সামনে এটাই সফল হবে। জনগণ এটাই চাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে একটি দলের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার উপক্রম হবে। বর্তমানে বিদেশি প্রেশার কাজ করছে। আমরা তাকিয়ে আছি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল চেষ্টা করছে। এই রকম সুযোগে সবাই যদি মিলেমিশে কিছু করতে পারে, তাহলে দেশের মানুষ উদ্ধার হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনের দিনে দেশের মানুষের হাতে রাজনীতি থাকবে না। রাজনৈতিক দলও থাকবে না। একটি দল ও তাদের একজন নেতার চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপক্রম হবে। যদি এভাবে নির্বাচন হয় এবং বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় আসে, তাহলে এটাই বাস্তবায়িত হবে। এজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য বড় ধরনের একটা পরীক্ষা। লুটপাটের কারণে সাধারণ মানুষের দুরবস্থা বাড়ছে। অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, এটা আরও বাড়বে। দেশের মানুষ একটা অজানা অনিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন গতি, অন্যদিকে প্রতিদিন মানুষের আয় কমছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে না এই সরকার।

জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা এমন সরকার চাই, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। স্বৈরাচার হবে না, ভালো কাজ করতে না পারলে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব পরিবর্তন করবে—এমন ব্যবস্থা চাই।’

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোহাম্মদ উল্লার সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল হোসেন বাবলা, ব্যারিস্টার আনিসুল হক, সাবেক এমপি মোহাম্মদ নোমান প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমএএম