মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর হোসেনপুর গ্রামের আইয়ুব আলী মুন্সীর ছেলে যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সী। তিনি দলের জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ-এ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন। সেই নিহত লিটন মুন্সীর পরিবারে শোকের ছায়া এখনো কাটেনি। খুব কষ্টে জীবনযাপন করছে তার পরিবার। পুরোনো ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। তাই গ্রামের বাড়িতে সরকারিভাবে একটি ঘর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
লিটনের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘ছেলে বলেছিল পুরোনো ঘর মেরামত করার দরকার নেই। আমি যখন উপার্জন করব তখন এখানে দালান দিব।’ কিন্তু দলকে ভালোবেসে সে প্রাণ দিয়ে দিল। আমাদের ঘরটির অবস্থা খুব খারাপ। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেন তাহলে খুব উপকার হয়। আমরা দুজনেই অসুস্থ। প্রতি মাসে আমাদের ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এসব টাকা পাব কোথায়? তিনি বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে লিটনের মেয়ে মিথিলার নামে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট বাড়ি এবং ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতি মাসে তার খরচ বাবদ ৫ হাজার করে টাকা দেন। মিথিলা মাদারীপুর থাকে। মাঝে মাঝে আমাদের কাছে ফোন করে।
লিটনের বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর পর সরকারিভাবে ৫ লাখ টাকা পেয়েছিলাম। চিকিৎসা করতে গিয়ে সে টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখন আমি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরকারি ভাতা পাই। এতে আমাদের সংসার চলে না। লিটনের মেয়ে মিথিলা বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যখন আমার বাবা মারা যান তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। বাবার আদর পাওয়ার আগেই তাকে হারিয়েছি। হামলার ঘটনায় অপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর হলেই আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।’
মিথিলার মা মাফিয়া বেগম স্বামীর মৃত্যুর তিন বছর পর এক প্রবাসীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন। তিনি জানান, মিথিলা মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে মানবিক শাখা থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ।
